১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪০:০৩ অপরাহ্ন


সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করলো ইসি
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৮ ১৩:৩৭:১৮
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল ঘোষণা করলো ইসি ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি পদের জন্য বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে এই আসনগুলোর জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন। দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ২২ ও ২৩ এপ্রিল সময় নির্ধারণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে কমিশনের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন। প্রাপ্ত আপিলসমূহ পরবর্তী দুই দিন অর্থাৎ ২৭ ও ২৮ এপ্রিলের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। এরপর ৩০ এপ্রিল চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইসি সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্রসহ মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে।

এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও জোটভিত্তিক আসন বণ্টনের একটি পরিষ্কার চিত্রও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। সংসদের সাধারণ আসনে বিজয়ী সদস্য সংখ্যার আনুপাতিক হার বিশ্লেষণ করে এই ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়েছে। ইসি সচিব জানান, বর্তমান সংসদের প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো জোটগতভাবে ৩৬টি সংরক্ষিত আসন লাভ করবে। অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ভাগে পড়বে ১৩টি আসন। এছাড়া বর্তমান সংসদে থাকা ৬ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নিজেদের মধ্যে জোটবদ্ধ হওয়ায় তারা একটি সংরক্ষিত আসনের অধিকারী হবেন।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর অন্দরমহলে নারী প্রার্থী নির্বাচনের তৎপরতা ও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সাধারণত সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পরোক্ষ পদ্ধতিতে হয়ে থাকে এবং সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো যাদের মনোনয়ন দেবে, তাদেরই মূলত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

নির্বাচন কমিশন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা যথাযথভাবে পূরণ হতে যাচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।