সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্র-সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, এসএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরীক্ষার রুটিনটি আগের সরকারের সময়ে নির্ধারিত এবং প্রশ্নপত্র মুদ্রণের কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাই পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ছাত্র, শিক্ষক বা অভিভাবকদের কোনো দোষ নেই, বরং সদিচ্ছার অভাবেই দেশের শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের মন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরই দায়ভার গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেন ড. মিলন। তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য পূরণে আগামী বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষায় যে কোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনকে আরও যুগোপযোগী ও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে কোচিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।