বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী জানান যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কিছু কৌশলগত বিষয় গোপনীয়তার খাতিরে এই মুহূর্তে জনসমক্ষে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা হচ্ছে কি না—এমন গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের গোপন চুক্তি নেই। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যা কিছু আলোচনা বা সম্পাদিত হয়েছে, তার প্রতিটি বিষয়ই স্বচ্ছ এবং জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ওপর কোনো পক্ষ থেকেই কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। মূলত দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো সাধারণ বিষয়গুলো নিয়েই সাম্প্রতিক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
একই সাথে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়টিও মন্ত্রী গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। চলমান আলোচনায় এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি গভীর ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।