১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০২:০১:০৩ পূর্বাহ্ন


ধূমপান ও সিগারেটের ব্যবহার কমিয়ে আনা জরুরি: চিফ হুইপ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০৪ ১৪:৪৯:২০
ধূমপান ও সিগারেটের ব্যবহার কমিয়ে আনা জরুরি: চিফ হুইপ ছবি: সংগৃহীত


বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীতেই জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী। এমন সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল যদি সরকারে থাকত, তবে তাদের পক্ষে তেলের দাম না বাড়িয়ে কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হতো না। সরকারের মজুদ ব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ২ লাখ মেট্রিক টন তেল মজুদ রয়েছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন আমদানির প্রক্রিয়ায় আছে। চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, পত্রিকা খুললে দেখা যায় ১০টি সংবাদের মধ্যে ৯টিই নেতিবাচক, অথচ সরকারের ইতিবাচক অর্জনগুলো সেভাবে ফুটে উঠছে না।

সংলাপে তামাক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মণি বলেন, মানবসম্পদই বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ। তাই এই বিশাল জনশক্তিকে রক্ষা করতে হলে ধূমপান ও সিগারেটের ব্যবহার কমিয়ে আনা জরুরি। কারণ একজন ব্যক্তির ধূমপানের ফলে তার আশপাশে থাকা আরও ১০ জন নিরপরাধ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। ই-সিগারেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক সময় সচেতনতামূলক প্রচারণার আড়ালে ই-সিগারেটের পরোক্ষ প্রচারণা হয়ে যাচ্ছে, যা এর বিস্তৃতি বাড়াচ্ছে। তাই কেবল সভা-সেমিনার করে নয়, বরং এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরাসরি দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি সরকার অতীতে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচার ও বিপণন বন্ধে অত্যন্ত কার্যকর এবং সাহসী ভূমিকা পালন করেছিল। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বর্তমান সময়েও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাদের মতামত তুলে ধরেন।