১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৬:৩৮ পূর্বাহ্ন


৫৪ বছর পর চাঁদের অভিমুখে যাত্রা ৪ নভোচারীর, যা থাকছে খাবারের মেন্যুতে
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-০২ ১৭:৫১:১৪
৫৪ বছর পর চাঁদের অভিমুখে যাত্রা ৪ নভোচারীর, যা থাকছে খাবারের মেন্যুতে ছবি: সংগৃহীত


দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের অভিমুখে মানববাহী মহাকাশযান পাঠাল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। গত বুধবার (১ এপ্রিল) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটে চড়ে মহাকাশে ডানা মেলেছে ‘আর্টেমিস-২’। ১০ দিনের এই অভিযানে চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তবে এই রোমাঞ্চকর অভিযানের সমান্তরালে এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মহাকাশচারীদের বিশেষ জীবনযাপন এবং তাদের জন্য নির্ধারিত বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকা।

মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে নভোচারীদের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে নাসা এবার তৈরি করেছে এক বিশাল মেন্যু। আর্টেমিস-২ মিশনের খাদ্যতালিকায় স্থান পেয়েছে মোট ১৮৯ ধরনের খাবার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রিফ্রেশিং আমের সালাদ, স্পাইসি গ্রিন বিনস, ব্লুবেরি গ্রানোলা এবং টরটিয়া। এ ছাড়াও পানীয় হিসেবে কফি থেকে শুরু করে ম্যাঙ্গো-পিচ স্মুদি এবং স্ট্রবেরি জুসসহ ১০টিরও বেশি বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে মহাকাশযানের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে প্রতিটি নভোচারী দিনে সর্বোচ্চ দুটি করে পানীয় গ্রহণ করতে পারবেন।

নাসা জানিয়েছে, এই বিশদ মেন্যু তৈরিতে নভোচারীদের ব্যক্তিগত পছন্দকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মাইক্রোগ্রাভিটি বা ওজনহীন পরিবেশে খাবার খাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং, তাই এমন সব খাবার বেছে নেওয়া হয়েছে যা সহজে খাওয়া যায় এবং যা থেকে বর্জ্য বা গুঁড়ো কম তৈরি হয়। ওরিয়ন মহাকাশযানে কোনো ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর না থাকায় তাজা খাবার রাখা সম্ভব হয়নি। এর বদলে সব খাবারই বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকনো রাখা হয়েছে। নভোচারীরা মহাকাশযানে থাকা পানির ডিসপেনসার ব্যবহার করে এই শুকনো খাবারগুলো পুনরায় খাওয়ার উপযোগী করে নেবেন এবং গরম করার জন্য ব্যবহার করবেন বিশেষ একটি ‘ফুড ওয়ার্মার’।

আর্টেমিস-২ মিশনটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক অভিযান, যেখানে মহাকাশযানটির নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এবারের মিশনে কমান্ডারের দায়িত্বে আছেন রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে রয়েছেন ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন। নভোচারীরা এবার চাঁদের মাটিতে অবতরণ না করলেও ডকিং সিমুলেশনের মাধ্যমে মহাকাশযানের ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা যাচাই করবেন। এই মিশনের সফল সমাপ্তি পরবর্তী ‘আর্টেমিস-৩’ অভিযানের পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখার স্বপ্ন দেখছে। হাজার হাজার উৎসুক মানুষের উপস্থিতিতে এই মহাযাত্রা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।