মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ৩৩ দিনে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় এশিয়ায় তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যতম তেল-শূন্য হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ।
ভয়াবহ সংকটের মুখে জ্বালানি খাত এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এই রুটটি অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম জানান, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণে এশিয়ায় বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাস্তব চিত্র: পাম্পে হাহাকার ও বন্ধ স্টেশন সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশন সরবরাহ না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেসব পাম্প খোলা আছে, সেখানে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল। ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি আরও সঙ্গিন; সেখানে প্লাস্টিকের বোতলে আকাশচুম্বী দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
মজুত পরিস্থিতি: হাতে আছে মাত্র কয়েক দিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের একমাত্র শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে’ অপরিশোধিত তেলের মজুত দিয়ে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। ডিজেল ও অকটেনের পরিস্থিতি আরও নাজুক। মার্চের হিসাব মতে, ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো। অর্থাৎ, নতুন সরবরাহ না এলে দেশ দ্রুতই স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিকল্প উৎসের খোঁজে সরকার এই জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার এখন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলো থেকে বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আনার চেষ্টা করছে। এমনকি রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্যও বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।