জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর আনীত এক জনগুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পটুয়াখালী-২ (সংসদীয় আসন-১১২) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা কেবল শাসন ব্যবস্থার সামান্য ‘সংশোধনী’ চায়নি, বরং তারা আমূল ‘রাষ্ট্র সংস্কার’ চেয়েছিল—যা এখন অবহেলিত হচ্ছে।
সংশোধনী বনাম রাষ্ট্র সংস্কার মঙ্গলবার বিকেলে অধিবেশনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, "বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে, পা হারিয়ে, চোখ হারিয়ে আমাদের সন্তানেরা জুলাইয়ে রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল—রাস্তা সংস্কারের কাজ না, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলছে’। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা সেই সংস্কারের কথাটি এখন মাথায় নিতেই পারছি না। আমরা সংস্কারের পরিবর্তে এখন কেবল কিছু সংশোধনের দিকে এগোচ্ছি।"
তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "শেখ হাসিনাও সেদিন বলেছিলেন যে তার দরজা ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে, তোমরা সংশোধনের জন্য এসো। কিন্তু ছাত্র-জনতা সেদিন সেই সংশোধন মেনে নেয়নি; তারা চেয়েছিল রাষ্ট্র সংস্কার। আজ আমরা কেন সেই সংস্কারের পথে হাঁটতে পারছি না?"
জনগণের ম্যান্ডেট ও সরকারি নীতি ট্রেজারি বেঞ্চের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, জনগণের ৫১ শতাংশ যেখানে ফ্যামিলি কার্ডের পক্ষে এবং ৭০ শতাংশ জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছে, সেখানে কেন উন্নয়নের দোহাই দিয়ে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরের তথাকথিত উন্নয়নের বয়ান দিয়ে জনগণকে আসল দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা শফিকুল ইসলাম মাসুদ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "এক সময় আমরাই বলেছিলাম প্রশাসক নিয়োগ সংবিধান ও গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু এখন নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করার পরও স্থানীয় নির্বাচনের দিকে না গিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও বলা হচ্ছে ‘সবাই মিলে বাংলাদেশ’—আসলে আমরা নৈতিকভাবে এটা বলতে পারি না।"