১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৩৭:০৫ অপরাহ্ন


পুলিশ হত্যার বিচার যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-৩০ ১৮:২৫:৩৫
পুলিশ হত্যার বিচার যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত


সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের হতাহতের ঘটনাকে ‘যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা’ বলে অভিহিত করেছেন। সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা হানাদার বাহিনীর মতো সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা ও ম্যাসাকার চালিয়েছে, তারা জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে প্রাণ হারিয়েছে কিংবা আহত হয়েছে। এটি মূলত সংঘাতের ময়দানেই মীমাংসিত হয়ে গেছে এবং এর জন্য আন্দোলনকারীদের দায়ী করার সুযোগ নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, সেটি আগামী ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন ও পাস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে, যার মধ্যে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের বিচারের দাবির প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেন যে, যদি আন্দোলনকারীদের বিচার চাওয়া হয়, তবে কি রাজাকার হত্যার দায়ে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে?

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে কিছু মামলার রায় দেশবাসী সরাসরি টেলিভিশনে দেখেছেন। সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না এবং প্রতিটি গুম, খুন ও গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়া সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পুলিশকে একটি সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। অপরাধ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অনলাইন জিডি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের দেশ-বিদেশে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিডিএমএস ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ ও মামলা মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।