যাঁরা পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা সশরীরে দেখেছেন, সেই জাপানি প্রবীণরা আজ বিশ্বশান্তির জন্য সোচ্চার। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের দাবিতে জাপানের চারটি প্রধান পরমাণু বেঁচে যাওয়া সংগঠন ওয়াশিংটন ও তেল আবিব দূতাবাসে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলি দূতাবাস সেই চিঠি না পড়েই ফেরত পাঠিয়েছে।
ইসরায়েলি আচরণের নিন্দা
নাগাসাকি অ্যাটমিক বোম্ব সারভাইভারস কাউন্সিলের ৮৫ বছর বয়সী প্রধান শিগেমিৎসু তানাকা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল অত্যন্ত সংকীর্ণমনা আচরণ করছে। আমরা শান্তির বার্তা নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়নি।” জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেইনিচি’র প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন। যুদ্ধের প্রতিবাদে টোকিওতে ‘ড্রপ বাস নট বোম্বস’ (Drop Bass Not Bombs) শিরোনামে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধ বন্ধ করো’ এবং ‘বর্ণবাদ নয়’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাজপথে নামেন।
শোক ও প্রতিবাদ
রোববার জাপানে নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে একটি বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের মিনাব শহরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৬৫ জন স্কুলছাত্রীর স্মরণে এই শোকসভায় সাধারণ জাপানি নাগরিক ও ইরানি প্রবাসীরা অংশ নেন। জাপানি শান্তিবাদী গোষ্ঠীগুলোর মতে, পারমাণবিক বোমার দগদগে ঘা বয়ে বেড়ানো একটি জাতি হিসেবে তারা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।