ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের অন্যতম কড়া সমালোচক স্পেন তাদের রাষ্ট্রদূতকে চিরতরে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্পেনের সরকারি গেজেটে ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের অধীনে দূতাবাস
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত পদটি বিলুপ্ত হওয়ায় এখন থেকে তেল আবিবে স্পেনের দূতাবাসটি একজন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ বা অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে এখন আর পূর্ণাঙ্গ কোনো কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকছে না।
গাজা যুদ্ধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রভাব
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকেই গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল স্পেন। গত সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি অস্ত্র বহনকারী কোনো বিমান বা জাহাজকে স্পেনের আকাশসীমা ও বন্দর ব্যবহার করতে না দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় মাদ্রিদ। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই পদক্ষেপকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে আখ্যা দিলেও স্পেন নিজের অবস্থানে অটল থাকে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও চূড়ান্ত অবনতি
গত মে মাসে স্পেন যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়, তখন থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক বিষিয়ে ওঠে। সম্প্রতি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পেনকে ‘স্বৈরশাসকদের সহযোগী’ বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে মাদ্রিদ রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
স্পেন ও ইসরায়েল—উভয় দেশই বর্তমানে একে অপরের রাজধানী থেকে রাষ্ট্রদূত সরিয়ে নিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল সময়ে ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ স্পেনের সাথে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।