১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন


প্যারাসিটামল: সাধারণ এই ওষুধের সঠিক ব্যবহার ও অজানা ঝুঁকি
লাইফ স্টাইল | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-২৩ ২২:০৫:৩৩
প্যারাসিটামল: সাধারণ এই ওষুধের সঠিক ব্যবহার ও অজানা ঝুঁকি


জ্বর বা সামান্য মাথাব্যথা—ফার্মেসিতে গিয়ে একটি ‘প্যারাসিটামল’ চাওয়া আমাদের দেশের সাধারণ চিত্র। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই এটি কেনা যায় বলে একে অনেকেই ‘নিরাপদ’ মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক মাত্রা ও নিয়ম না জানলে এই জীবনদায়ী ওষুধই হতে পারে লিভার বা কিডনি নষ্টের কারণ।

প্যারাসিটামল আসলে কী?

প্যারাসিটামল (Paracetamol) হলো একটি এনালজেসিক (ব্যথানাশক) এবং অ্যান্টিপাইরেটিক (জ্বররোধী) ওষুধ। এটি মূলত মস্তিষ্কের সেই অংশকে প্রভাবিত করে যা ব্যথার অনুভূতি এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

সঠিক মাত্রা কতটুকু?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ মাত্রা হলো ৪ গ্রাম বা ৪,০০০ মিলিগ্রাম। সাধারণত বাজারে ৫০০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট পাওয়া যায়, সেই হিসেবে দিনে ৮টির বেশি ট্যাবলেট কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়। তবে দুই ডোজের মধ্যে অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকা জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন ও বয়স অনুযায়ী মাত্রা ভিন্ন হয়, যা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করা উচিত।

যে ঝুঁকিগুলো এড়িয়ে চলবেন:

১. লিভারের ক্ষতি: প্যারাসিটামলের অতিরিক্ত সেবন (Overdose) লিভার ফেইলিউরের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘমেয়াদে নিয়ম ছাড়া এই ওষুধ খেলে লিভারের কোষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. অ্যালকোহল ও প্যারাসিটামল: যারা নিয়মিত মদ্যপান করেন, তাদের জন্য প্যারাসিটামল অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এটি লিভারের ওপর দ্বিগুণ চাপ সৃষ্টি করে।

৩. অন্য ওষুধের সাথে বিক্রিয়া: সর্দি-কাশির অনেক ‘কম্বিনেশন’ ওষুধে আগে থেকেই প্যারাসিটামল থাকে। না জেনে আলাদা করে আবার প্যারাসিটামল খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।

কখন সাবধান হতে হবে?

যদি ওষুধ খাওয়ার পরও ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকে বা ব্যথা না কমে, তবে নিজে থেকে আর ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। এছাড়া গর্ভাবস্থায় বা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্যারাসিটামল সেবন একেবারেই নিষিদ্ধ।


লাইফ স্টাইল | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই