১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৫:৪০:২৫ অপরাহ্ন


কোন বছরে হবে ২ টি রমজান এবং ৩ টি ঈদ?
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৯ ২১:২০:০৭
কোন বছরে হবে ২ টি রমজান এবং ৩ টি ঈদ? ছবি: সংগৃহীত


২০৩০ সালে মুসলিম বিশ্বে এক বিরল ও অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি হতে যাচ্ছে। মহাজাগতিক গণনার হিসেবে ওই বছর মুসলিম উম্মাহ একই ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করার সুযোগ পাবেন। সাধারণত চন্দ্র বছর ও সৌর বছরের সময়ের ব্যবধানের কারণেই এমন চমৎকার এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা প্রায় প্রতি তিন দশক অন্তর একবার ফিরে আসে। দুবাই অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান আহমেদ আল হারিরি এবং সৌদি আরবের বিখ্যাত ভূগোলবিদ ও জলবায়ু অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মুসনাদ এই বিষ্ময়কর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মূলত ইংরেজি বা গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার চলে সূর্যের ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে মাসগুলো ৩০ বা ৩১ দিনের হয়ে থাকে। অন্যদিকে, হিজরি বা চন্দ্র ক্যালেন্ডার নির্ধারিত হয় চাঁদের আবর্তনের ওপর, যার মাসগুলো হয় ২৯ বা ৩০ দিনের। এই পার্থক্যের কারণে চন্দ্র বছর সৌর বছরের তুলনায় প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। সময়ের এই ক্রমহ্রাসমান ব্যবধান যখন পুঞ্জীভূত হয়, তখন নির্দিষ্ট কিছু বছর অন্তর একই ইংরেজি বছরে দুইবার রমজান মাস পড়ে যায়।

২০৩০ সালের দিনপঞ্জিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি ১৪৫১ হিজরির রমজান মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মাসটি ৩০ দিন পূর্ণ করে ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে শেষ হবে। এর ঠিক কয়েক মাস পর, অর্থাৎ একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে ১৪৫২ হিজরির রমজান মাস। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই রমজানের প্রথম ৬টি রোজা পালিত হবে। ফলে ২০৩০ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মুসলমানরা বছরের শুরুতে ৩০টি এবং বছরের শেষে ৬টি—সর্বমোট ৩৬টি রোজা পালন করবেন। তবে ২৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া রমজান মাসের বাকি রোজাগুলো এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে ২০৩১ সালের জানুয়ারি মাসে।

গ্লোবাল ইসলামিক ক্যালেন্ডারও এই বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের প্রতিধ্বনি করেছে। সেখানেও দেখা গেছে যে ২০৩০ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম রমজান এবং ২৬ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় রমজানটি বিস্তৃত থাকবে। শুধু ২০৩০ সালই নয়, বিশেষজ্ঞরা আরও পূর্বাভাস দিয়েছেন যে ২০৩৩ সালেও অনেকটা একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে দুইবার রমজান এবং তিনটি ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা থাকবে। মহাজাগতিক এই চক্রটি যেমন বৈজ্ঞানিকভাবে কৌতূহলোদ্দীপক, তেমনি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এটি এক বছরে দুইবার সিয়াম সাধনার এক বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসবে।