১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৩৭:৪২ অপরাহ্ন


আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় মার্কিন কমিশন: ভারতকে ‘সিপিসি’ তালিকায় রাখার সুপারিশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৬ ২১:৪২:০৮
আরএসএস-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় মার্কিন কমিশন: ভারতকে ‘সিপিসি’ তালিকায় রাখার সুপারিশ


ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব এবং পদ্ধতিগতভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস-এর ওপর টার্গেটেড নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল সংস্থা ইউএসসিআইআরএফ। সোমবার প্রকাশিত তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতকে ‘সিপিসি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব

ইউএসসিআইআরএফ-এর মতে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে অবনতি হয়েছে। তাই ভারতকে 'কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন' (সিপিসি) বা বিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। সাধারণত সেই দেশগুলোকেই এই তালিকায় রাখা হয়, যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর ও পদ্ধতিগত লঙ্ঘন ঘটে।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ

সংস্থাটির প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে:

  • সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: মহারাষ্ট্রে আওরঙ্গজেবের সমাধি কেন্দ্রিক সংঘাত এবং ওডিশায় কোরআন অবমাননার অভিযোগে ভিএইচপি নেতাদের উসকানি ও হামলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথা বলা হয়েছে।

  • রোহিঙ্গা ও বাংলাভাষী নিপীড়ন: প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মে মাসে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে মাঝ সমুদ্রে নামিয়ে দিয়ে সাঁতরে তীরে ফিরতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া আসামে শত শত বাংলাভাষী মুসলমানকে ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • কঠোর আইন: ধর্মান্তরবিরোধী আইনের নামে কারাদণ্ডের বিধান বাড়ানো এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালগুলোকে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার সমালোচনা করা হয়েছে।

আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

ইউএসসিআইআরএফ তাদের সুপারিশে শুধু ভারতকে কালো তালিকাভুক্ত করার কথাই বলেনি, বরং ধর্মীয় সহিংসতায় উসকানিদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলেছে। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)–এর মতো সংগঠনের সম্পদ জব্দ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানানো হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফ-এর ভূমিকা

উল্লেখ্য, ইউএসসিআইআরএফ হলো ১৯৯৮ সালের ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাক্ট অনুযায়ী গঠিত একটি স্বাধীন মার্কিন ফেডারেল সংস্থা। যদিও এই সংস্থার সুপারিশ মানা মার্কিন প্রশাসনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে এর প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে ভারতের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


উপসংহার: ভারতের পক্ষ থেকে অতীতে এ ধরনের প্রতিবেদনকে 'ভিত্তিহীন' এবং 'অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ' বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের এই প্রতিবেদনে আরএসএস-এর মতো প্রভাবশালী সংগঠনের নাম সরাসরি আসায় দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর ছায়া পড়তে পারে।