মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও প্রকট করে দক্ষিণ লেবাননে স্থলপথ দিয়ে প্রবেশ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বিশেষ করে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত 'খিয়াম' শহরকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। খিয়াম শহরটি ভৌগোলিকভাবে এমন উচ্চতায় অবস্থিত যেখান থেকে উত্তর ইসরায়েল এবং লেবাননের সমতলভূমি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও কৌশলগত গুরুত্ব
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সোমবার সকালে জানিয়েছে, তারা তাদের ‘অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা অঞ্চল’ সম্প্রসারণে দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী স্থাপনা ধ্বংস করা এবং উত্তর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
খিয়াম শহরের গুরুত্ব নিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান: “খিয়াম যার নিয়ন্ত্রণে যাবে, সে-ই কৌশলগত সুবিধা পাবে। এটি দক্ষিণ লেবাননের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই রাস্তাটি হিজবুল্লাহর প্রভাবাধীন বেকা উপত্যকার সঙ্গে যুক্ত। ইসরায়েল মূলত হিজবুল্লাহর সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে।”
খামেনি হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতির পর হিজবুল্লাহ বড় কোনো আক্রমণ চালায়নি। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। হিজবুল্লাহ পাল্টা রকেট ছুড়লে তেল আবিব পূর্ণশক্তি নিয়ে লেবাননে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যদিও হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রই বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ১০৭ জন শিশু এবং ৬৬ জন নারী। ইসরায়েলের নির্দেশে রাজধানী বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ৮ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার সকালে ইয়াতের, বুর্জ কালাউইয়া, সুলতানিয়া এবং শাকরা শহরেও ভয়াবহ বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
| বিষয় | তথ্য |
| মূল রণক্ষেত্র | দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম শহর। |
| ইসরায়েলি দাবি | হিজবুল্লাহর সরবরাহ লাইন ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা। |
| শরণার্থী সংখ্যা | ৮ লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত লেবানিজ। |
| নিহত | ৮৫০ জন (১০৭ শিশু সহ)। |