১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন


'বউ মেলা'য় পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ, ১ দিনেই বাণিজ্য হয় ১০ কোটি টাকার
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৪ ১৫:৩৪:১৯
'বউ মেলা'য় পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ, ১ দিনেই বাণিজ্য হয় ১০ কোটি টাকার ছবি: সংগৃহীত


বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ইছামতী নদীর তীরে প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত হয় ঐতিহ্যের পোড়াদহ মেলা। প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এই লোকজ উৎসবটি স্থানীয়দের কাছে ‘সন্ন্যাসী মেলা’ নামে শুরু হলেও কালক্রমে তা ‘জামাই মেলা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই মেলা ঘিরে গাবতলী ও আশপাশের কয়েকশ গ্রামে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ঈদে দাওয়াত না দিলেও মেলার সময় মেয়ে-জামাই ও আত্মীয়দের দাওয়াত দেওয়া একটি সামাজিক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো বিশাল আকৃতির মাছের বাজার। যমুনা, বাঙ্গালী ও ইছামতী নদীর বাঘা আইড়, রুই, কাতলা ও চিতল মাছের পসরা নিয়ে বসেন জেলেরা। জামাইরা মেলা থেকে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার ঐতিহ্য পালন করেন। মাছের পাশাপাশি এই মেলার আরেকটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো মাছ আকৃতির মিষ্টি। এক কেজি থেকে শুরু করে বারো কেজি ওজনের মাছের আদলে তৈরি এই মিষ্টান্ন পর্যটক ও ক্রেতাদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। এছাড়া মেলায় কাঠের আসবাবপত্র, ঘরকন্নার সামগ্রী এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা ও সার্কাসের আয়োজন থাকে।

মেলার অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর পরদিন আয়োজিত ‘বউ মেলা’। তিন দশক ধরে চলে আসা এই মেলায় কেবল নারীরাই কেনাকাটা করতে পারেন এবং দোকানদার ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ। চুড়ি, ফিতা, আলতা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র কেনায় সেখানে নারীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। আয়োজকদের মতে, প্রধান মেলা এবং বউ মেলা মিলিয়ে একদিনেই এখানে প্রায় ১০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যার বড় একটি অংশ আসে মাছ কেনাবেচা থেকে। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে পোড়াদহ মেলা আজ উত্তরবঙ্গের এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।