১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:২৫:১৫ অপরাহ্ন


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হত্যাকাণ্ডে স্বামীর রিমান্ড আবেদন
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৬ ১৪:৩০:২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হত্যাকাণ্ডে স্বামীর রিমান্ড আবেদন ছবি: সংগৃহীত


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী শারমীন জাহানের (খাদিজা) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী ফাহিমকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

নিহত শারমীন জাহান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। অন্যদিকে তার স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে গত বছরের ২৪ জুন তারা বিয়ে করেন এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে নানা পারিবারিক কলহ তৈরি হয়, যা শারমীন তার পরিবারকেও জানিয়েছিলেন।

ঘটনার দিন অর্থাৎ গত রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান যে শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে মনিরুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালে এবং মাথার ওপরে গভীর ও রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রবিবার দিবাগত রাতে নিহতের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ সকালে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে।

এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এই ঘটনাকে নৃশংস উল্লেখ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানান। একইসাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে সোচ্চার হয়েছেন।