১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৮:২৭:৪০ অপরাহ্ন


ঈদে ঘর ছাড়ার আগে টাকা-গয়না স্বজনদের কাছে অথবা থানায় রাখুন: ডিএমপি কমিশনার
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৫ ১৬:২৫:২৭
ঈদে ঘর ছাড়ার আগে টাকা-গয়না স্বজনদের কাছে অথবা থানায় রাখুন: ডিএমপি কমিশনার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি), কমিশনার মো. সরওয়ার


আসন্ন ঈদুল ফিতরে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভিনব ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ঘর খালি রেখে যাওয়ার সময় মূল্যবান নগদ অর্থ বা স্বর্ণালংকার বাড়িতে অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে বিশ্বস্ত আত্মীয়-স্বজনের কাছে অথবা প্রয়োজনে থানায় জমা রাখা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ সতর্কবার্তা

রবিবার (১৫ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন: “নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল অরক্ষিত অবস্থায় রাখবেন না। এগুলো আপনার আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে যাবেন। আর ঢাকায় যাদের আত্মীয় নেই, তারা প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিন। প্রয়োজনে থানায়ও রাখা যেতে পারে।”

নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপি’র প্রস্তুতি

ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে মো. সরওয়ার নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ডিএমপি ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • টহল জোরদার: অপরাধীদের তৎপরতা রুখতে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় নিয়মিত টহল কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

  • চেকপোস্ট ও সিসিটিভি: রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল রাখার এবং নতুন ক্যামেরা স্থাপনের জন্য তিনি নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

  • বিশেষ অভিযান: ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ‘ব্লক রেইড’ ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘর ছাড়ার আগে যা করতে হবে

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার রাজধানীবাসীকে বাসা ছাড়ার আগে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলেন:

  • দরজা-জানালা এবং তালা ঠিকমতো বন্ধ হয়েছে কি না তা পুনরায় পরীক্ষা করা।

  • বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করা।

  • রাতের বেলায় বাসার আশেপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা।

  • কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি দেখলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানো।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, রোজার মাসে ট্রাফিক সামলাতে অতিরিক্ত ৬০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে লক্কড়-ঝক্কড় বাসের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান রয়েছে।