১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৫৭:৪০ অপরাহ্ন


মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলায় চীনের ‘বাইডো’ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে ইরান: গোয়েন্দা বিশ্লেষক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৪ ১৩:১২:১৯
মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলায় চীনের ‘বাইডো’ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে ইরান: গোয়েন্দা বিশ্লেষক


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে ইরান কর্তৃক ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে। ফ্রান্সের সাবেক বৈদেশিক গোয়েন্দা পরিচালক আলাইন জুইলেটসহ একাধিক বিশেষজ্ঞের ধারণা, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস (GPS)-এর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনের তৈরি ‘বাইডো’ (Beidou) স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

হামলার নির্ভুলতা ও বিশেষজ্ঞদের বিস্ময়

ফ্রান্সের স্বাধীন টোকসিন পডকাস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলাইন জুইলেট বলেন, “গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অনেক বেশি নিখুঁত। এর একমাত্র যৌক্তিক ব্যাখ্যা হলো চীন ইরানকে তাদের ‘বাইডো’ সামরিক সিগন্যালে প্রবেশাধিকার দিয়েছে।”

২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলে হামলার সময় যে সক্ষমতা দেখা গিয়েছিল, ২০২৬-এর বর্তমান যুদ্ধে তা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে জিপিএস জ্যামিং বা সংকেত বিঘ্নিত করার মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।

কেন জিপিএস ছেড়ে ‘বাইডো’?

যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তাদের মালিকানাধীন জিপিএস সিগন্যাল যেকোনো অঞ্চলের জন্য অচল বা সংকেত বিকৃত করতে পারে। আগে ইরানের সামরিক বাহিনী এর ওপর নির্ভর করত। কিন্তু চীনের বাইডো ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেই সংকেত বাধাগ্রস্ত করা প্রায় অসম্ভব।

 - স্যাটেলাইট সংখ্যা: যুক্তরাষ্ট্রের জিপিএস সিস্টেমে ২৪টি স্যাটেলাইট থাকলেও চীনের বাইডো ব্যবস্থায় রয়েছে ৪৫টি।

 - ভুলের মাত্রা (Margin of Error): বাইডো-৩ এর সামরিক সিগন্যালের ভুলের মাত্রা এক মিটারেরও কম।

 - শর্ট মেসেজ টুল: এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব

চীন-ইরান সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক থিও নেনচিনির মতে, এটি রাতারাতি ঘটা কোনো ঘটনা নয়।

 - ২০১৫: ইরান বাইডো-২ যুক্ত করতে সমঝোতা স্মারক সই করে।

 - ২০২১: দুই দেশের ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত চুক্তির পর চীন ইরানকে তাদের এনক্রিপ্টেড সামরিক সিগন্যাল (B3A) ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

 - ২০২৫: জুনের যুদ্ধের পর ইরান তাদের লজিস্টিকস ও বেসামরিক ক্ষেত্রেও পূর্ণাঙ্গভাবে বাইডোতে স্থানান্তরিত হয়।

যুদ্ধের নতুন সমীকরণ

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক প্যাট্রিসিয়া মারিন্স জানান, ২০২৫ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল জিপিএস সিগন্যাল অচল করে দিলেও বাইডো-৩ জ্যাম করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে গেছে। একদিকে ইরান সস্তা ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানছে।

চীনও এই যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা পশ্চিমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে। ইরান ফ্রান্সের চেয়ে তিনগুণ বড় দেশ হওয়ায় এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের ওপর মোতায়েন থাকায়, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির এই উৎকর্ষ তাদের ধ্বংস করা আরও কঠিন করে তুলেছে।