১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩২:৩৯ অপরাহ্ন


চ্যাটজিপিটি নিরাপদ নয়: ইলন মাস্ক
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৩ ১৬:৫৪:৫৭
চ্যাটজিপিটি নিরাপদ নয়: ইলন মাস্ক ছবি: সংগৃহীত


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) শিশু এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ‘নিরাপদ নয়’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্বের আলোচিত ব্যক্তিত্ব ইলন মাস্ক। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রিয়জনদের এই এআই চ্যাটবট থেকে দূরে রাখা উচিত। মাস্কের এই মন্তব্য স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন ওপেনএআই-এর সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ইলন মাস্কের এই আক্রমণের মূলে রয়েছে গত মাসে কানাডার একটি বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বন্দুক হামলা। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারী জেসি ভ্যান রুটসেলার হামলার আগে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারী কয়েক দিন ধরে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বন্দুক হামলার কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন, যার কিছু অংশ চ্যাটবটটির স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ধরাও পড়েছিল। এই ঘটনাকে উদ্ধৃত করেই মাস্ক দাবি করেছেন যে, চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের ফলে অন্তত নয়টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে, যার মধ্যে পাঁচটিই ছিল আত্মহত্যা।

এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওপেনএআই-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টটি তারা নিষিদ্ধ করেছেন। তবে তাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওই কথোপকথনগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর মতো প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেনি। অন্যদিকে, ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করলেও দাবি করেছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং এর জন্য এককভাবে প্রযুক্তিকে দায়ী করা ঠিক নয়।

পাল্টা আক্রমণে অল্টম্যান আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইলন মাস্কের নিজস্ব এআই প্রতিষ্ঠান ‘এক্স এআই’-এর তৈরি চ্যাটবট ‘গ্রোক’ নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। এছাড়া মাস্কের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার ‘অটোপাইলট’ প্রযুক্তির ত্রুটির কারণে ঘটা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রসঙ্গটিও তিনি টেনে আনেন। দুই প্রযুক্তি জায়ান্টে‌র এই বাকযুদ্ধ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।