১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন


সংসদের দর্শক সারিতে বসে প্রথম অধিবেশন দেখলেন যে অতিথিরা
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১২ ১৫:২৬:১১
সংসদের দর্শক সারিতে বসে প্রথম অধিবেশন দেখলেন যে অতিথিরা ছবি: সংগৃহীত


দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল শেষে এক নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই সংসদকে ঘিরে জনমনে যেমন রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, তেমনি রয়েছে আগামীর রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল প্রত্যাশা।

অধিবেশনের শুরুতে এক নজিরবিহীন ও বিশেষ সাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিগত সরকারের পতনের ফলে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করা হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রস্তাব উত্থাপনকালে ১৯৭৩ সালের এক ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সে সময় প্রবীণ নেতা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। বর্তমান সংকটকালীন সময়ে সেই ঐতিহ্যের পথ ধরেই প্রবীণ এই সংসদ সদস্যের হাত ধরে যাত্রা শুরু করল নতুন সংসদ।

সংসদের গ্যালারিতে আজ ছিল বিশিষ্টজনদের এক বিরল ও অনন্য সমাহার। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সশরীরে উপস্থিত থেকে এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়াও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে পুরো সংসদ কক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দেশের বহুল প্রতীক্ষিত সাধারণ নির্বাচন। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মাথায় আজ এই ঐতিহাসিক অধিবেশন শুরু হলো, যা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।