১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:২৪:২৬ অপরাহ্ন


জামায়াত আমিরের সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি: উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১০ ১৯:৫১:১৭
জামায়াত আমিরের সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি: উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান


জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোয় তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অব্যাহতির কারণ

বিবৃতিতে জানানো হয়, গণমাধ্যমে আলোচিত এই ঘটনাটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। তৎকালীন উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠির বিষয়ে দলীয় আমিরকে অবহিত করলেও তা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, চিঠির প্রকৃত বিষয়বস্তু এবং আমিরকে দেওয়া ব্রিফিংয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

বিশেষ করে, চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ‘মন্ত্রীর পদমর্যাদা’ চাওয়ার যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে ডা. শফিকুর রহমানের কোনো ধরনের সম্মতি বা পূর্বাবগতি ছিল না। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরপরই আমিরের নির্দেশে মাহমুদুল হাসানকে উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নতুন নিয়োগ ও ভুল বোঝাবুঝি নিরসন

অব্যাহতিপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসানের পরিবর্তে আমিরের নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছে। ফোনে আলাপকালে দলীয় প্রধানের অজ্ঞাতসারে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দাপ্তরিকভাবে অবহিত করার মাধ্যমে বিতর্কের অবসান ঘটানো হয়েছে।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের কারণেই এই তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।