ভারত ও আইসিসির সঙ্গে তৈরি হওয়া এক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের জেরে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও সেই আসরে খেলতে না পারার আক্ষেপ ও ক্ষত এখনো দগদগে। শুধু দেশের কোটি সমর্থকই নন, মাঠের লড়াইয়ে নামতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই সময় যে গভীর হতাশা কাজ করেছিল, তা কাটিয়ে ওঠা মোটেও সহজ ছিল না।
তবে সিমন্স মনে করেন, অতীত নিয়ে পড়ে থাকার সময় এখন আর নেই। তিনি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছেন যে, সবাই বিষয়টি নিয়ে ব্যথিত হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) তাদের কিছুটা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ফেরায় ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে শক্তি ফিরে পাচ্ছেন। সামনেই ওয়ানডে ফরম্যাটের আইসিসি বিশ্বকাপ, যেখানে সরাসরি জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদি সরাসরি সুযোগ না মেলে, তবে বাছাইপর্বের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতে পারে টাইগারেরদের।
কোচ সিমন্সের মতে, আপাতত লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকাপের সমীকরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা। তিনি বিশ্বাস করেন, র্যাংকিংয়ে উন্নতি করতে হলে ভালো পারফরম্যান্সের কোনো বিকল্প নেই। এক সময় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ অত্যন্ত শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে সাকিব আল হাসানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে নতুনদের নিয়ে দল গোছানোর কাজ চলছে। তাই আগে মাঠে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে, তারপর কোয়ালিফিকেশন নিয়ে ভাবা যাবে।
এদিকে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের স্মৃতি বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। তবে এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সিমন্স জানান, পাকিস্তানও নিশ্চয়ই সহজে ছেড়ে দেবে না, তবে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হলো এই সিরিজ থেকেই একটি ইতিবাচক শুরু করা। এই জয়ী মানসিকতাই ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের কঠিন পথে বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।