১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন


নারী প্রধান পরিবারের ভাগ্যবদল: দেশব্যাপী 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১০ ১৩:৫০:৩৯
নারী প্রধান পরিবারের ভাগ্যবদল: দেশব্যাপী 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই যুগান্তকারী প্রকল্পের সূচনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রান্তিক নারীদের হাতে আস্থার প্রতীক

প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে বেগম পারভিন, বেগম বাসুনা, বকুলা বেগমসহ মোট ১৬ জন প্রান্তিক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। কার্ড গ্রহণের পর সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি এলাকা থেকে আসা উপকারভোগীরা তাঁদের আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং এই সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এরপর ল্যাপটপের বোতাম চেপে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য ও আর্থিক বরাদ্দ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, পাইলটিং পর্যায়ে এই প্রকল্পের জন্য আগামী জুন মাস পর্যন্ত মোট ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দের ৬৬.০৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে।

সহায়তার পরিমাণ: প্রতিটি তালিকাভুক্ত পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা পাবেন। ভবিষ্যতে ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য দেওয়ার পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

পরিবার কাঠামো: সাধারণত ৫ সদস্যের জন্য একটি কার্ড বরাদ্দ করা হলেও যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যার অনুপাতে কার্ড বৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে।

সুযোগ-সুবিধা: 'জি-টু-পি' (G2P) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করবে।

স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তি

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি রোধে এই প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

"কোনো রকম মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই 'প্রক্সি মিনস টেস্ট' (PMT) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।" — মন্ত্রণালয় সূত্র

ফ্যামিলি কার্ডগুলোতে স্পর্শহীন (Contactless) চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ডাটাবেজ তৈরির সময় ৬৭,৮৫৪টি পরিবারের তথ্য যাচাই শেষে সরকারি সুবিধাভোগী ও সচ্ছলদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে মনোনীত করা হয়েছে।

কঠোর নীতিমালা ও অযোগ্যতার শর্তাবলি

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে, ৫ লক্ষ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে কিংবা গাড়ি/এসি-র মতো বিলাসবহুল সম্পদ থাকলে তারা এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।

আগামীর লক্ষ্য

অনুষ্ঠানের সভাপতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বর্তমানে ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই পাইলটিং কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি কাজ করছে।

সরকার মনে করছে, এই পদক্ষেপ কেবল দারিদ্র্য বিমোচন নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন ও 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন ইতোমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।