পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য সুযোগ। এই মাসের ইবাদতের মর্যাদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজান আসার আগেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতেন এবং মাসটি শুরু হলে পার্থিব ব্যস্ততা কমিয়ে ইবাদতে নিমগ্ন হতেন। বিশেষ করে রমজানের রাতগুলোতে নবীজি (সা.) যেসব গুরুত্বপূর্ণ আমল করতেন, তা মুমিনদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ।
নবীজি (সা.)-এর রমজানের রাতের অন্যতম প্রধান আমল ছিল অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত। প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে আসতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। এছাড়া রমজানের বিশেষ ইবাদত তারাবিহর নামাজে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতের নামাজ (তারাবিহ) আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদিও উম্মতের ওপর ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি জামাতে কয়েক দিনের বেশি তারাবিহ পড়েননি, তবে এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা হিসেবে জারি রয়েছে।
রমজানে নবীজি (সা.)-এর রাতের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল দীর্ঘ তাহাজ্জুদ ও সেহরি গ্রহণ। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা মতে, তিনি রমজান ও রমজানের বাইরে সাধারণত ১১ রাকাত নামাজ (বিতরসহ) দীর্ঘ ও সুন্দরভাবে আদায় করতেন। এরপর তিনি সুবহে সাদিকের কিছুক্ষণ আগে বরকতময় সেহরি গ্রহণ করতেন। সাহাবিদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর সেহরি ও ফজরের নামাজের মধ্যে বিরতি ছিল মাত্র ৫০টি আয়াত তিলাওয়াত করার মতো সময়।
পাশাপাশি সময়মতো ইফতার করাকেও নবীজি (সা.) বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করতেন এবং বলতেন যে, মানুষ ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে। মূলত ইবাদত, তিলাওয়াত, দীর্ঘ নামাজ ও সেহরি-ইফতারের সুন্নতের মাধ্যমেই নবীজি (সা.) রমজানের রাতগুলোকে জীবন্ত রাখতেন। তাঁর এই আমলগুলো অনুসরণ করেই একজন মুমিন রমজানের প্রকৃত শিক্ষা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারেন।