১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৬:০৬ অপরাহ্ন


ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৭ ১৫:৪৮:২৭
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ ছবি: সংগৃহীত


আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে এক নতুন ও চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। মুক্তিপাগল বাঙালির হৃদয়ে সেই ভাষণ যে উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল, তার ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সারা বাংলায়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে মুহুর্মুহু স্লোগান আর লাল-সবুজ পতাকার মিছিলে সেদিন কেঁপে উঠেছিল ঢাকার আকাশ-বাতাস।

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত সেই অমর বাক্য— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’—পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে দিশাহারা করে দিয়েছিল। এই একটি ভাষণই নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র যোদ্ধায় পরিণত করার মূল মন্ত্র হিসেবে কাজ করে। সেদিন কেবল ঢাকা নয়, সারা দেশ থেকে মানুষ ছুটে এসেছিল নেতার দিকনির্দেশনা শুনতে। বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বান জনগণকে আন্দোলিত করেছিল এবং স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।

৭ই মার্চের ভাষণের পরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙালির ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদের দায় চাপিয়ে বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞের ঘৃণ্য পরিকল্পনা শুরু করে। তবে বীর বাঙালি দমে যায়নি; বঙ্গবন্ধুর সেই ডাক শোনার পর থেকেই ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বাঙালির এই অমূল্য সম্পদ আজ বিশ্বজনীন। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বীর বাঙালির অস্ত্র ধরার আগে দেওয়া এই ভাষণ আজও আমাদের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে আছে।