১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৪৩:৪২ পূর্বাহ্ন


আসিফ মাহমুদ এবং তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে ১৫ লাখ টাকা
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৫ ১৫:০০:৫৯
আসিফ মাহমুদ এবং তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে ১৫ লাখ টাকা ছবি: সংগৃহীত


সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কর্তৃক তাঁর হিসাব তলব করার পর সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটাতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, তাঁর নিজের দুটি ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি বাবা, মা ও স্ত্রীর মোট নয়টি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে সব মিলিয়ে ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৮ টাকা রয়েছে। বিস্তারিত তথ্যে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়া সরকারে থাকাকালীন স্যালারি অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা ও ভ্রমণ বিল বাবদ জমা হওয়া টাকা থেকে খরচ করার পর বর্তমানে অবশিষ্ট আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর বাবা একজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা, তবে সার্ভিস লোন বাবদ তিনি উল্টো ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা ঋণী রয়েছেন। এছাড়া তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে মাত্র ৬১৩ টাকা থাকার তথ্য তিনি প্রকাশ করেন।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বিএফআইইউ-এর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটি ৫৬ জনের তথ্য তলব করলেও কেবল তাঁর নাম আলাদাভাবে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ‘হীন উদ্দেশ্য’ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগের সময় তিনি সম্পদের পূর্ণ বিবরণী জমা দিয়ে এসেছিলেন এবং বর্তমানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই তথ্যগুলো জনগণের সামনে উন্মুক্ত করেছেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আসিফ মাহমুদ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মিডিয়া ও বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহার করে অতীতেও মিথ্যা বয়ান তৈরি করা হয়েছে, যেমনটা করা হয়েছিল খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং সরকারের দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া কিছু ব্যক্তি এই অপপ্রচারের নেপথ্যে কাজ করছে। তবে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।