ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবার তুরস্কের আকাশসীমা পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে চালানো সেই আগ্রাসনের পাল্টা জবাবে তেহরান যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসার পথে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল দেশটির রাজধানী আঙ্কারা অভিমুখে আসছিল। তবে সেটি তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ন্যাটোর (NATO) শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। যদিও তুরস্কে সরাসরি কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই, তবে ন্যাটো সদস্য হিসেবে দেশটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে যা যৌথভাবে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়েছিল।
গত কয়েকদিন ধরে ইরান কেবল ইসরায়েলি ভূখণ্ডই নয়, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেও মুহুর্মুহু হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ডে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ করে দেয়, তবে তাদেরও এর পরিণাম ভোগ করতে হবে। তুরস্কের ঘটনাটি এই সংঘাতের এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তুরস্ক খোদ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর একটি প্রভাবশালী সদস্য দেশ।
এই ঘটনার পর তুরস্ক সরকার বা ইরানের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে আঙ্কারার আকাশসীমায় মিসাইল রুখে দেওয়ার এই ঘটনাটি পুরো অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ইরান যদি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।