১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪০:৩৮ অপরাহ্ন


তিশা-অথৈর ‘থাপ্পড়’ কাণ্ডে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে 'অভিনয় শিল্পী সংঘ'
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৪ ১৭:০৩:৩৩
তিশা-অথৈর ‘থাপ্পড়’ কাণ্ডে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে 'অভিনয় শিল্পী সংঘ'


শুটিং সেটে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যকার অপ্রীতিকর ঘটনা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ছোট পর্দার আঙিনা। গত ৩ মার্চ পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকুর একটি নাটকের দৃশ্যধারণ চলাকালে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ ফেসবুক লাইভে এসে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধর ও অপদস্ত করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। সামিয়ার দাবি অনুযায়ী, নাটকের একটি দৃশ্যে তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও তিশা তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার জোরে চড় মারেন, যার ফলে তাঁর চোখ ফুলে যায় এবং কথা বলতে সমস্যা হয়। শুধু তাই নয়, সামিয়া আরও অভিযোগ করেন যে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানকে নিজের ‘স্বামী’ দাবি করে তিশা এর আগে তাঁকে ফারহানের সাথে কাজ না করতে হুমকি দিয়েছিলেন। সামিয়ার ভাষ্যমতে, তিশা সেটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ অত্যন্ত অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তানজিন তিশা। তাঁর মতে, যা কিছু ঘটেছে তা কেবল চরিত্রের প্রয়োজনে এবং চিত্রনাট্যের খাতিরেই করা হয়েছে। তিশা জানান, তিনি এই নাটকে একজন ‘স্পেশাল চাইল্ড’ বা অটিস্টিক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যে চরিত্রের প্রয়োজনে কামড় দেওয়া বা মারধর করার মতো দৃশ্য থাকা স্বাভাবিক। তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আক্রোশ হিসেবে না দেখে পেশাদারত্বের জায়গা থেকে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শকরা সব বুঝতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এদিকে নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু পুরো বিষয়টিকে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, দৃশ্যধারণের সময় চড় দিতে গিয়ে হয়তো কারো জোরে লেগেছে, যা থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, পেশাগত কোনো বিরোধ বা সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা সংগঠনের আচরণবিধির পরিপন্থী। এভাবে জনমতের আদালত বা ‘পাবলিক ট্রায়াল’ তৈরি করলে সামগ্রিকভাবে অভিনয়শিল্পী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। সংগঠনটি বিশ্বাস করে, দোষী যেই হোক না কেন, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। বর্তমানে বিষয়টি সাংগঠনিক তদন্ত ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।