১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৬:১১ অপরাহ্ন


এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন কেন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০৪ ১৬:২৩:৩৯
এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন কেন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছবি: সংগৃহীত


তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের ১৫ দিন পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদগুলো। বিশেষ করে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিএনপি সূত্রমতে, রাষ্ট্র ও সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতে অভিজ্ঞ এবং সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের বসাতে চায় বর্তমান সরকার। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি, তবে একটি পক্ষ তাকে সরিয়ে নতুন নিয়োগের দাবি তুললেও দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য নেতা একাধিক আছে কিন্তু এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন কেন? সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তো এখনও শেষ হয়নি।

অন্যদিকে, আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে জোরালোভাবে। স্পিকার পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সংসদীয় রীতিনীতি ও অভিজ্ঞতার বিচারে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং আইনি দক্ষতায় জয়নুল আবেদীন দলের ভেতরে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি সংসদ উপনেতা নির্বাচনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। যদিও সংবিধানে এই পদের সরাসরি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে সংসদীয় কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতে মির্জা ফখরুল এই পদের প্রয়োজনীয়তা উড়িয়ে দেননি।

সংসদীয় গণতন্ত্রে এক নতুন নজির স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, 'জুলাই জাতীয় সনদের' সমঝোতা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক উদারতা বজায় রাখতে ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। যেহেতু ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠকেই তারেক রহমান এসব পদে চূড়ান্ত মনোনীতদের নাম ঘোষণা করবেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।