১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন


রুমমেটকে হত্যা করে ৭ টুকরো করার ঘটনায় আসামি শাহিন ৫ দিনের রিমান্ডে
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০২ ১৬:২১:১৪
রুমমেটকে হত্যা করে ৭ টুকরো করার ঘটনায় আসামি শাহিন ৫ দিনের রিমান্ডে ছবিঃ সংগৃহীত


রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেটকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ দেন। এর আগে মতিঝিল থানা পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ এবং অভিযুক্ত শাহিন আলম মতিঝিলের একটি রুমে একসঙ্গে থাকতেন। ওবায়দুল্লাহ একটি বেসরকারি কোম্পানিতে এবং শাহিন একটি হোটেলে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পাওনা টাকা ও আচরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছিল। ঘটনার দিন ওবায়দুল্লাহ যখন ওয়াশরুমে কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন শাহিন আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; হত্যার পর মরদেহটি সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে তুরাগ নদী থেকে মরদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করলেও বাকি অংশগুলো এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন জানান, মরদেহের বাকি দেহাংশ উদ্ধার এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও ইন্ধন বা সহযোগিতা আছে কিনা, তা নিশ্চিত হতেই আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর এই ঘটনাকে একটি ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে সর্বোচ্চ রিমান্ডের দাবি জানান। শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

বিচারক আসামির কাছে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে শাহিন আলম দাবি করেন, তার মা অসুস্থ ছিলেন এবং ওবায়দুল্লাহর কাছে তিনি কিছু টাকা পেতেন। এছাড়া ওবায়দুল্লাহর ব্যবহার তার পছন্দ ছিল না। তবে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে শাহিন দাবি করেন, হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না, রাগের মাথায় এই কাজ করেছেন। সাড়ে চার মাস ধরে ঢাকায় বসবাস করা শাহিনের বিরুদ্ধে গত রবিবার মতিঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিঞা।

পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। রিমান্ডে থাকা শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং নিখোঁজ দেহাংশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।