ফিচার ডেস্ক | ১ মার্চ, ২০২৬
ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ক্ষমতার চূড়ায় আরোহণের আগে তার পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ এবং দারিদ্র্যের সাথে এক অবিরাম যুদ্ধ। মাশহাদের এক জীর্ণ কুটির থেকে শুরু হওয়া সেই সংগ্রামী শৈশবের গল্পটি যেকোনো পাঠকের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
জন্ম ও অতি সাধারণ পরিবার
১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল (১৩১৮ ফার্সি সাল) ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে এক অতি সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে আলী হোসাইনী খামেনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সাইয়্যেদ জাওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সাদাসিধে আলেম এবং মা খাদিজাহ মিরদামাদি ছিলেন ধৈর্য ও আধ্যাত্মিকতার মূর্ত প্রতীক। আট ভাইবোনের মধ্যে খামেনি ছিলেন দ্বিতীয়।
দারিদ্র্যের সাথে নিরন্তর সংগ্রাম
খামেনির শৈশব ছিল নিদারুণ অর্থকষ্টে ঘেরা। তারা এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে, অনেক সময় রাতের খাবারে শুধু শুকনো রুটি আর সামান্য দুগ্ধজাত খাবার জুটত। খামেনি নিজেই একবার স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন: "আমার বাবার আয় ছিল অত্যন্ত সামান্য। আমাদের ঘরটি ছিল মাত্র চার-পাঁচ বর্গমিটারের একটি কক্ষ। যখন বাড়িতে অতিথি আসতেন, তখন আমাদের জন্য থাকার জায়গা হতো না। মা আমাদের রান্নাঘরে নিয়ে যেতেন এবং সেখানেই আমরা ঘুমাতাম।"
শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি
মাত্র চার বছর বয়সে বড় ভাই সাইয়্যেদ মোহাম্মদের সাথে তিনি স্থানীয় মক্তবে বর্ণমালা শিখতে শুরু করেন। মেধাবী আলী খামেনি মক্তব শেষ করে 'দারুল তালিম দিয়ানাত' নামক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্কুলের ধরাবাঁধা পড়াশোনার পাশাপাশি তার প্রবল ঝোঁক ছিল ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি।
বাবার আদর্শ ও মাদ্রাসার দিনগুলো
বাবার ইচ্ছা ছিল সন্তানরা যেন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে ওঠে। পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে খামেনি মাত্র ১২ বছর বয়সে ধর্মীয় মাদ্রাসায় ভর্তি হন। মাশহাদের 'সুলাইমান খান' এবং 'নাওয়াব' মাদ্রাসায় তার শিক্ষা জীবনের ভিত রচিত হয়। অভাবের কারণে অনেক সময় ভালো পোশাক বা বই কিনতে না পারলেও জ্ঞানের প্রতি তার তৃষ্ণা ছিল অপরিসীম।
ব্যক্তিত্বের গঠন ও শখ
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন শান্ত প্রকৃতির কিন্তু স্পষ্টভাষী। তিনি অবসরে ইতিহাস এবং ধ্রুপদী সাহিত্য পড়তে ভালোবাসতেন। পড়াশোনার প্রতি এই অগাধ ভালোবাসা তার ব্যক্তিত্বে এক গভীর প্রজ্ঞা এনে দিয়েছিল, যা তাকে পরবর্তীতে একজন দক্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
উপসংহার
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শৈশব প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশ কখনোই লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে না। অভাবের সাথে লড়াই করে বড় হওয়া সেই বালকটিই মেধা ও সাহসিকতার জোরে একসময় ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন।