১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪৮:২৬ অপরাহ্ন


প্রধান উপদেষ্টা এবং তার উপদেষ্টারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: আব্দুন নূর তুষার
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০১ ১৮:৩২:১৬
প্রধান উপদেষ্টা এবং তার উপদেষ্টারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: আব্দুন নূর তুষার ছবিঃ সংগৃহীত


বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর উপদেষ্টারা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার অনেকগুলোই সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। বিশেষ করে সংবিধান ও আইনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা যেভাবে নির্ধারিত আছে, বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আব্দুন নূর তুষার তাঁর বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলী রিয়াজের উদ্যোগে গঠিত কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই কমিশনের প্রাথমিক আলোচনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার কথা বলা হয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতিকে আরও ক্ষমতা ও যথাযথ সম্মান দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু তুষারের মতে, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে সংবিধান অনুযায়ী যে নূন্যতম সম্মান দেওয়ার কথা, সেটিও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি ঈদগাহে রাষ্ট্রপতির নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তুষার বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে কেউ নামাজ পড়তে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া অত্যন্ত অনুচিত এবং এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টাকে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়, তবে তাঁর পাশেই রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন কিছু ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকেই এই বাধা এসেছে বলে তিনি দাবি করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই বিশ্লেষক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বিদেশ সফরে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়েছেন। তুষারের মতে, প্রধান উপদেষ্টা যেখানে দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করার কথা, সেখানে নির্দিষ্ট কিছু দলের ব্যক্তিদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিদেশ সফরে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই পুরো বিষয়টি রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন এবং এই ঘটনাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি জানান।