১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:১৮:২৩ পূর্বাহ্ন


ওজন বাড়ার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক আছে?
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-০১ ১৬:৪০:৪৮
ওজন বাড়ার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক আছে? ছবিঃ সংগৃহীত


লিভারের যে সমস্যাটিকে আমরা এতদিন ‘ফ্যাটি লিভার’ হিসেবে জেনে এসেছি, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তার নাম এখন বদলে রাখা হয়েছে এমএএসএলডি (MASLD)। নাম বদলের পেছনে যৌক্তিক কারণও আছে; এটি কেবল লিভারে চর্বি জমা নয়, বরং শরীরের বিপাকীয় বা মেটাবলিক সমস্যার এক জটিল বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই রোগটি এখন অনেকটা ‘নীরব মহামারি’র মতো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাগুলোর সঙ্গেই এর গভীর মিতালি।

সহজভাবে বলতে গেলে, যখন লিভারের কোষে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে, তখনই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। একজন মানুষ হয়তো দিব্যি সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাঁর লিভারে মেদের স্তর জমছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা ওবিসিটি এই সমস্যার প্রধান কারণ। পেটের চারপাশে যখন চর্বি জমে, তখন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারে গিয়ে জমা হতে থাকে। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।

অনেকেই ফ্যাটি লিভারকে খুব সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান, কিন্তু অবহেলা করলে এটি চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। লিভারে জমানো এই চর্বি থেকে ধীরে ধীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যাকে চিকিৎসকরা এমএএসএইচ (MASH) বলেন। এই প্রদাহ থেকে পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস বা লিভার স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনকি বর্তমানে লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। শুধু লিভার নয়, এই রোগীদের হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকিও অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

তবে ভয়ের পাশাপাশি আশার কথা হলো, সঠিক সচেতনতা আর জীবনযাপনের পরিবর্তন আনলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিকারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীরের ওজন কমানো। গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি তাঁর বর্তমান ওজনের মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারেন, তবে লিভারের চর্বি ও প্রদাহ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এর জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস করা জরুরি। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস থেকে চিনি ও অতিরিক্ত তেল বাদ দিয়ে বেশি করে শাকসবজি ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করতে হবে।

যাঁরা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ওজনে আধিক্য রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো উচিত। বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে বেশ কিছু আধুনিক ওষুধও আশার আলো দেখাচ্ছে। সিমাগ্লুটাইড বা টারজিপিটাইডের মতো কিছু ওষুধ ওজন কমানোর পাশাপাশি লিভারের মেদ কমাতেও দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সচেতনতাই হচ্ছে আসল সমাধান; স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আর সঠিক সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই এই নীরব ঘাতক থেকে লিভারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।লিভারের যে সমস্যাটিকে আমরা এতদিন ‘ফ্যাটি লিভার’ হিসেবে জেনে এসেছি, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তার নাম এখন বদলে রাখা হয়েছে এমএএসএলডি (MASLD)। নাম বদলের পেছনে যৌক্তিক কারণও আছে; এটি কেবল লিভারে চর্বি জমা নয়, বরং শরীরের বিপাকীয় বা মেটাবলিক সমস্যার এক জটিল বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই রোগটি এখন অনেকটা ‘নীরব মহামারি’র মতো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যাগুলোর সঙ্গেই এর গভীর মিতালি।

সহজভাবে বলতে গেলে, যখন লিভারের কোষে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে, তখনই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। একজন মানুষ হয়তো দিব্যি সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাঁর লিভারে মেদের স্তর জমছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা ওবিসিটি এই সমস্যার প্রধান কারণ। পেটের চারপাশে যখন চর্বি জমে, তখন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারে গিয়ে জমা হতে থাকে। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।

অনেকেই ফ্যাটি লিভারকে খুব সাধারণ সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যান, কিন্তু অবহেলা করলে এটি চরম বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। লিভারে জমানো এই চর্বি থেকে ধীরে ধীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যাকে চিকিৎসকরা এমএএসএইচ (MASH) বলেন। এই প্রদাহ থেকে পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস বা লিভার স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমনকি বর্তমানে লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এই সমস্যাটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। শুধু লিভার নয়, এই রোগীদের হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকের ঝুঁকিও অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

তবে ভয়ের পাশাপাশি আশার কথা হলো, সঠিক সচেতনতা আর জীবনযাপনের পরিবর্তন আনলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রতিকারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শরীরের ওজন কমানো। গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি তাঁর বর্তমান ওজনের মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারেন, তবে লিভারের চর্বি ও প্রদাহ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এর জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়ামের অভ্যাস করা জরুরি। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস থেকে চিনি ও অতিরিক্ত তেল বাদ দিয়ে বেশি করে শাকসবজি ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করতে হবে।

যাঁরা উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ওজনে আধিক্য রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো উচিত। বর্তমানে চিকিৎসাক্ষেত্রে বেশ কিছু আধুনিক ওষুধও আশার আলো দেখাচ্ছে। সিমাগ্লুটাইড বা টারজিপিটাইডের মতো কিছু ওষুধ ওজন কমানোর পাশাপাশি লিভারের মেদ কমাতেও দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সচেতনতাই হচ্ছে আসল সমাধান; স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আর সঠিক সময়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই এই নীরব ঘাতক থেকে লিভারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।