১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১২:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন


স্বামীর সাথে লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপে যে চ্যালেঞ্জে ফারিণ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০২-২৬ ১৯:২৬:৫৯
স্বামীর সাথে লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপে যে চ্যালেঞ্জে ফারিণ ফারিণ


দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ বর্তমানে ওপার বাংলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’ সিনেমার শুটিং নিয়ে। এই সিনেমার মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি, যা নিয়ে দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যেই কাজ করছে বাড়তি উন্মাদনা। শুটিংয়ের ব্যস্ত শিডিউলের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের সঙ্গে এক বিশেষ ভিডিও সাক্ষাৎকারে মেতেছিলেন ফারিণ। সেখানে ঢাকা ও কলকাতার সিনেমার কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের গল্প।

কলকাতায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফারিণ জানান, এর আগে অতনু ঘোষের ‘আরও এক পৃথিবী’ সিনেমায় অভিনয় করলেও সেটির বেশিরভাগ শুটিং হয়েছিল লন্ডনে। তাই এবারই প্রথম পুরোপুরি কলকাতার মাটিতে শুটিং করার স্বাদ নিচ্ছেন তিনি। আর এই সুযোগে শহরটির ঐতিহ্যবাহী ‘ক্যাফে কালচার’-এ মজেছেন অভিনেত্রী। বিশেষ করে হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার ক্যাফেগুলো তাঁর ভীষণ প্রিয়। ফারিণের মতে, ওই এক রাস্তায় যে পরিমাণ ক্যাফে আছে, তা এক মাস ধরে ঘুরেও বোধহয় শেষ করা সম্ভব হবে না। কাজের ফাঁকে একটু ঘোরাঘুরি আর স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়াটাও তাঁর এই সফরের অন্যতম আনন্দ।

টলিউডে ফারিণের কাজের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। অভিনেতা দেবের সঙ্গে ‘প্রজাপতি ২’ এবং আরও একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথা চূড়ান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিসা জটিলতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে নতুন খবর হলো, প্রখ্যাত পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর নতুন একটি প্রজেক্ট নিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চলছে। যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয় বলে এখনই খোলসা করে কিছু বলতে চাইলেন না অভিনেত্রী। তবে দুই বাংলার কাজের ধরন নিয়ে তিনি বেশ ইতিবাচক। ফারিণের মতে, দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও খাদ্যাভ্যাস এতটাই এক যে ওপার বাংলার কোনো চিত্রনাট্য পড়লে তাঁর কখনোই মনে হয় না যে তিনি অন্য কোনো দেশের গল্প পড়ছেন।

পেশাগত জীবনের বাইরে ফারিণের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের কৌতূহল কম নয়। ২০২৩ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমিক শেখ রেজওয়ানকে বিয়ে করেন তিনি। রেজওয়ান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মরত, আর ফারিণকে কাজের প্রয়োজনে থাকতে হয় ঢাকায় কিংবা শুটিং স্পটে। এই ‘লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ’ সামলানো যে বেশ চ্যালেঞ্জিং, তা অকপটে স্বীকার করলেন তিনি। সময়ের পার্থক্যের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার সুযোগ না থাকলেও তাঁদের মধ্যে রয়েছে দারুণ বোঝাপড়া।

সাক্ষাৎকারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের এক অদ্ভুত ও মিষ্টি ‘গোপন কথা’ ফাঁস করেন ফারিণ। তিনি জানান, এই প্রথম তিনি প্রকাশ করছেন যে তাঁর ফোনের লাইভ লোকেশন সবসময় তাঁর স্বামীর সঙ্গে শেয়ার করা থাকে। সাত সমুদ্র তেরো নদী দূরে থাকলেও স্বামী যেন নিশ্চিত থাকতে পারেন যে ফারিণ কোথায় আছেন এবং ঠিকঠাক আছেন, মূলত সেই ভরসা থেকেই এই ব্যবস্থা। কাজের চাপে কথা কম হলেও এই ডিজিটাল সংযোগটুকুই তাঁদের দূরত্বের মাঝে সেতু হয়ে কাজ করে।