বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধন; বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খরচ কমানোর ওপর সরকারের বিশেষ জোর
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা নয়, বরং উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ লক্ষণীয়ভাবে কমিয়ে আনা।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর, ২০২৬) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই প্রদর্শনীর এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিগত সময়ের নানা ব্যর্থতা নিয়ে অহেতুক সময় নষ্ট না করে ভবিষ্যতের উদ্ভাবনী পরিকল্পনার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে অহেতুক সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। বরং আগামী দিনগুলোতে কীভাবে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা যায় এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সুনিশ্চিত করা যায়, বর্তমান সরকারের কাছে সেটিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও সম্মানীয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।
এ ছাড়া এই জমকালো প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক সরকারি কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবাধ বিস্তার ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে জাতীয় সচেতনতা তৈরিতে প্রদর্শনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।