বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। গত বুধবার হরিয়ানার সোনিপত জেলার বড়োদা গ্রাম থেকে অঙ্কিত নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলার ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান! কিন্তু তাঁর বাড়ির চারপাশের কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করতে না পেরে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে টাইগার শ্রফকে নিশানা করে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় তিন হামলাকারী। মোটরসাইকেলে এসে চালানো ওই হামলায় অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর চালক ফিরদৌস এবং ঘটনাস্থলে থাকা এক অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, পুরো অপরাধচক্রের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বিদেশে পলাতক গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিত, যিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হয়ে এই চক্র পরিচালনা করছেন। তাঁরই নির্দেশে উত্তরপ্রদেশের রাধা ও ববিতা নামের দুই নারী অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০টি কার্তুজ সংগ্রহ করেন। গত ১৫ অক্টোবর এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে কুণালের নির্দেশনায় পিস্তলটি ব্যাগে লুকিয়ে ট্রেনে করে মুম্বাইয়ে নিয়ে আসেন তাঁরা। ১৭ অক্টোবর দাদর রেলস্টেশনে পৌঁছে একটি হোটেলে ওঠার পর এক নাবালকের মাধ্যমে সেই অস্ত্র হামলাকারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অপরাধ সংগঠনের আগে অটোচালকদের ভাড়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বলিউড তারকার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা ও নজরদারি চালাতেন। সালমান খানের বাড়িতে বড় পরিসরে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে পুলিশের অতি কড়া নিরাপত্তা ও কমান্ডো পাহারা থাকায় হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করে টাইগার শ্রফের গাড়িকে নিশানা করে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সুপারস্টার সালমান খানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বাইরে আধুনিক সাবমেশিনগান হাতে কমান্ডো ও পুলিশ প্রহরা জোরদার করা হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১), ৩(৫) ও ১১১ (সংগঠিত অপরাধ) ধারায় মামলা রুজু করে নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।