১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:৫২:৩৭ পূর্বাহ্ন


ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১২ ১৬:৪৯:১৭
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা I ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় অঙ্গীকার; সকল ধর্মের মানুষের সম-অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের সদিচ্ছার প্রকাশ

       ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, বরং দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে নয়, বরং একজন মানুষ ও স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সুরক্ষা প্রদানে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর।

আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণে সরকারের গৃহীত নানা বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। দুর্গাপূজাসহ ধর্মীয় উৎসবে ছুটি বৃদ্ধি এবং সরকারি অনুদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরো কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন নিজেদের অধিকার ভোগ করতে পারেন, সে পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।"

দেশের ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। সেই মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ এক হয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, "জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন রাষ্ট্র পরিচালনা বা অন্য কাজে কেন ধর্মকে টেনে আনা হবে? দেশটা আমরা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও সবার সমান অবদান রয়েছে।"

বিগত আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সব ধর্মের নেতাকর্মীরাই অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেখানে শাসকগোষ্ঠী ধর্মের কোনো পার্থক্য দেখেনি; তাঁর দলের মুসলিম কর্মীরা যেমন কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে আত্মত্যাগ করেছেন।

নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে দেশের সেবা করার একটি বড় সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করব, ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করতে।"

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা জানান, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে পুরো দেশে তাঁরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সহাবস্থানমূলক পরিবেশে বসবাস করছেন। বর্তমানে তাঁদের কোনো প্রকার ভয় বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। তাঁরা দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিএনপিকে ভোট দিয়ে দেশপ্রেমিক সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি, বর্তমান সরকারের প্রথম থেকেই নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। আগামী দিনেও সরকারের সকল জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সনাতন সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

উক্ত মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন সভায় উপস্থিত ছিলেন।