১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:০৪:২৪ অপরাহ্ন


পাকিস্তানের প্রথম মিউজিক ভিডিও ১ বিলিয়ন ভিউ ‘পাসুরি’র!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-০৭ ১৮:৪৬:২৮
পাকিস্তানের প্রথম মিউজিক ভিডিও ১ বিলিয়ন ভিউ ‘পাসুরি’র! ছবি: সংগৃহীত


কোক স্টুডিওর ইতিহাস গড়া সাফল্য; ইউটিউবে ১০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল আলি শেঠি ও শে গিলের গান

      একটি গানের আবেদন কতটা তীব্র হলে চার বছর পার হওয়ার পরও তার জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়ে না? তার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করল পাকিস্তানের কোক স্টুডিওর জনপ্রিয় গান ‘পাসুরি’। ইউটিউবে ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ভিউয়ের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করে প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইতিহাস গড়েছে গানটি।

আলি শেঠি ও শে গিলের দরদী কণ্ঠে ‘পাসুরি’ গানটি প্রথম মুক্তি পেয়েছিল ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। মুক্তির পর থেকেই সীমানার প্রাচীর টপকে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এর সুর ও ছন্দ। চার বছর সাত মাসেরও কম সময়ে ইউটিউবে এই ঐতিহাসিক অর্জন যুক্ত হলো গানটির ঝুলিতে।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আনন্দের খবরটি নিশ্চিত করে কোক স্টুডিও কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট শিল্পী, কলাকুশলী ও বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি শ্রোতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা লিখেছে, যারা এই গানটি ভালোবেসেছেন, গেয়েছেন এবং নিজেদের জীবনের অংশ বানিয়ে নিয়েছেন—এই ঐতিহাসিক জয় তাদের সবার।

কেবল ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবেই নয়, অডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ স্পটিফাইতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ‘পাসুরি’। মুক্তির বছরেই স্পটিফাইতে সর্বাধিক স্ট্রিম হওয়া পাকিস্তানি গান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এটি। বর্তমানে সেখানে গানটির মোট স্ট্রিম সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি ৫০ লাখ, যা শিল্পী আলি শেঠি ও শে গিল—উভয়ের ক্যারিয়ারেই সর্বোচ্চ।

গানের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার প্রমাণ মেলে মার্ভেল স্টুডিওর বিখ্যাত ওয়েব সিরিজ ‘মিস মার্ভেল’-এ, যেখানে পাকিস্তানি সংস্কৃতি তুলে ধরতে সাউন্ডট্র্যাক হিসেবে ‘পাসুরি’ যুক্ত করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা এর অসংখ্য কভার সংস্করণ তৈরি করেছেন।

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ‘কোক স্টুডিও আফ্রিকা’ গানটির একটি আফ্রোবিটস রিমেক প্রকাশ করে। যেখানে আলি শেঠির পাশাপাশি কণ্ঠ দেন বিখ্যাত শিল্পী মারওয়ান মুসা ও রিকাডো ব্যাংকস। পরবর্তীতে বলিউডের এক চলচ্চিত্রে অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে ‘পাসুরি’র একটি হিন্দি সংস্করণ তৈরি করা হলেও সেটি মূল ভক্তদের মধ্যে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তবে যাবতীয় বিতর্ক এড়িয়ে মূল ‘পাসুরি’ ঠিকই নিজের রাজত্ব বজায় রেখেছে। চার বছর পরও শ্রোতাদের হৃদয় ও প্লেলিস্ট দখল করে রাখা এই গানের ১ বিলিয়ন ক্লাবে প্রবেশ আবারও প্রমাণ করল, কালজয়ী সুরের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না।