চিকিৎসক সংকট ও কেনাকাটায় দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা; স্বাস্থ্য খাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা
দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকার কোনো কার্যকর কাজ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। চিকিৎসাসেবার অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ১৮ কোটি মানুষের বিপরীতে প্রতি ১১ হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র
বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে মানহীন যন্ত্রপাতি কিনে বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান দিকসমূহ:
- মানহীন যন্ত্রপাতি: কয়েক লাখ কোটি টাকার নিম্নমানের চিকিৎসাসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যার অধিকাংশ ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
- চিকিৎসক ও নার্স সংকট: দেশে তীব্র ডাক্তার ও নার্স সংকট রয়েছে, একই সঙ্গে পুরো খাতটি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত করা হয়েছিল।
- সেবার মান ও নৈতিকতা: হাসপাতালে উন্নত মানের খাবার নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সঙ্গে ডাক্তার ও নার্সদের সুব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি।
মানিকগঞ্জ মতবিনিময় সভার মূল বিষয়সংক্ষেপ
-----------------------------------------------------------------
১. প্রধান অতিথি : সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী)
২. সভাপতিত্ব করেন : নাজমুন আরা সুলতানা (জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ)
৩. ডাক্তারের অনুপাত : প্রতি ১১ হাজার মানুষের জন্য ১ জন চিকিৎসক
৪. মূল বার্তা : দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ
জিরো টলারেন্স নীতি ও স্বচ্ছতা
সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সবস্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা হবে।
| বিষয় | নির্দেশনাবলী ও বক্তব্য |
| দুর্নীতি প্রতিরোধ | দেশ বাঁচাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এবং নেশা ও জুয়া বন্ধে কঠোর অবস্থান। |
| জবাবদিহিতা | জনগণের রায় স্বচ্ছতার সঙ্গে নেওয়া হয়েছে, তাই কাজের মাধ্যমে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। |
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ কবির জিন্নাহ, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান এবং পুলিশ সুপার গোলাম সারোয়ার আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ।