১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৪৩:০৬ অপরাহ্ন


জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-১৭ ১৩:৪৩:২৪
জনগণের প্রতি বিভ্রান্তকারীদের নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান I ছবি: সংগৃহীত


কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের বক্তব্য; ১৩ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা

 দেশে বিভ্রান্তি ও রটনা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি তাঁদের ‘চোখে চোখে’ নজরদারিতে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণ-সংগ্রামে ভূমিকা না রেখে যাঁরা এখন সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তাঁদের অতীত বিবেচনা করে ভবিষ্যতে চেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি জেলার নারীদের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্খু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের হাতে সম্মানির চেক তুলে দেন। এছাড়া অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক এবং একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি।

বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার বার্তা


অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকালে রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন:

“দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী কিংবা বিগত ১৭ বছরের জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ আজ তারা সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছে। বিভ্রান্তকারীরা এলে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।”

তিনি মনে করিয়ে দেন, রূপরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রস্তাবনা জনগণের সামনে এনেছিল।

জনকল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ


বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতের মেগা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়িত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন:

উন্নয়ন ও জনকল্যাণ খাতসরকারের বাস্তবায়িত ও প্রস্তাবিত উদ্যোগসমূহ
সামাজিক সুরক্ষাফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য সামাজিক ভাতা
কৃষি খাত১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ মওকুফ; খাল খনন কর্মসূচি
শিক্ষা ও নারীনীতিনারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখা; ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করা
কর্মসংস্থান ও শিক্ষক ভাতাস্বৈরাচার আমলে বঞ্চিত ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন
               প্রধানমন্ত্রীর প্রধান দিকনির্দেশনাসমূহ
   --------------------------------------------------------------
   ১. নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন
   ২. সেচ ও পানি সংকট কাটাতে দেশব্যাপী ২৫০ কিমি খাল খনন
   ৩. কর্মসংস্থান তৈরিতে নতুন শিল্প ও মিল-কারখানা স্থাপন
   ৪. ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান


‘মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির রাজনীতি’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজকে পেছনে ফেলে কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করতেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ প্রদান নয়, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ভাষার দক্ষতায় পারদর্শী করে আন্তর্জাতিক মানের নাগরিকে পরিণত করা হবে। সেই লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম ও জালাল উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।