শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘বিধিমালা ২০২৫’ কার্যকর; হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় হর্ন বা আতশবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
মানবস্বাস্থ্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সদ্য প্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে মেনে চলতে সর্বসাধারণের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
এলাকাভিত্তিক শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা ও নির্দেশনা
গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিবেশের ধরন অনুযায়ী শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই সীমা অতিক্রমকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
- নিরব ও শিল্প এলাকা: হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন নিরব এলাকায় শব্দমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে।
- যানবাহনের হর্ন ব্যবহার: আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত যানবাহনের হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া নিরব এলাকায় যেকোনো সময়ে হর্ন বাজানো পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
- পটকা ও আতশবাজি: নিরব ও আবাসিক এলাকায় পটকা ফোটানো, আতশবাজি পোড়ানো বা অন্য কোনো উপায়ে কৃত্রিম উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।
- নির্মাণকাজের সময়সীমা: আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের ভেতরে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কোনো প্রকার শব্দদূষণকারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি বা মিক্সার চালানো যাবে না।
পাবলিক প্লেসে মাইক ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের শর্ত
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শব্দ উৎপন্নকারী হর্ন প্রস্তুত, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও যানবাহনে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
| শব্দের ক্ষেত্র / এলাকা | বিধিনিষেধ ও সময়সীমা |
| পাবলিক প্লেসে উচ্চ শব্দ | সরকারি অনুমতি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবল এবং দিনে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা। |
| মাইক ব্যবহারের নৈশসীমা | রাত ১১টার পর পাবলিক প্লেসে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র সম্পূর্ণ বন্ধ। |
| বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাস | উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বনভোজন (পিকনিক) ও স্পিকার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| আবাসিক এলাকায় নির্মাণকাজ | ৫০০ মিটার সীমানায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নিষিদ্ধ। |
ঘটনাস্থলেই ব্যবস্থা নেবেন ট্রাফিক সার্জেন্ট
শব্দদূষণ সংক্রান্ত এই নতুন বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে শব্দদূষণের সত্যতা প্রত্যক্ষ করলে সরাসরি আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সাধারণ জনগণকে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিজেদের সুস্থতায় ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।