১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৫:১৮ অপরাহ্ন


ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড কী? ২০২৬ সালে কারা পাবেন এবং কীভাবে আবেদন করবেন?
বিশেষ প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০৬ ১৪:৫২:২৭
ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড কী? ২০২৬ সালে কারা পাবেন এবং কীভাবে আবেদন করবেন?


ভুয়া লিংকে বিভ্রান্ত না হয়ে জেনে নিন সরকারের নতুন ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক তথ্য ও আবেদনের মাধ্যম


       স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারের নানামুখী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা নিশ্চিত করতে চালু হতে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড’। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহুপ্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন।

তবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হওয়ার সংবাদের সুযোগ নিয়ে অনলাইনে নানা ভুয়া লিংক, ওয়েবসাইটের প্রচার ও প্রতারণা বেড়ে গেছে। তাই সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রকৃত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নেওয়া জরুরি।

১. ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড আসলে কী?


ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড হলো সরকারের সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিবারভিত্তিক একটি স্মার্ট ও সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র। পূর্বে টিসিবি (TCB)-এর পণ্য কেনা বা বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রে কার্ডের অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকলেও, নতুন ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে ১টি পরিবারের জন্য ১টি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল কার্ড বরাদ্দ করা হবে।

২. ফ্যামিলি কার্ড থাকলে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

  • ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য: টিসিবি (TCB)-এর মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে কেনাকাটার সুযোগ।

  • সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা: সরকারি সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ভাতা ও সহায়তার টাকা সরাসরি ক্যাশ আউট বা তোলার সুবিধা।

  • সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা: এক কার্ডের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন দুর্যোগকালীন খাদ্য সহায়তা, ত্রাণ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক ভাতা পাওয়া যাবে।

৩. ২০২৬ সালে কারা পাবেন এই কার্ড? (যোগ্যতা)


সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র অনুযায়ী, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। অগ্রাধিকার পাবেন:

  • দেশের নিম্ন আয়ের পরিবার ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।

  • দুস্থ, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারসমূহ।

  • যাদের নিজস্ব কোনো স্থায়ী উচ্চ আয়ের উৎস বা বড় ধরনের সম্পত্তির মালিকানা নেই।

  • সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক ও নদীভাঙন কবলিত এলাকার দরিদ্র নাগরিকেরা।

৪. অনলাইনে আবেদন সত্যি নাকি প্রতারণা?


⚠️ সতর্কবার্তা: বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা হোয়াটসঅ্যাপে ছড়ানো “এখানে ক্লিক করে ঘরে বসেই ১০০ টাকায় ফ্যামিলি কার্ড বানিয়ে নিন”—এ ধরনের সকল ওয়েবসাইট ও লিংক সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক।

  • সরকার কোনো তৃতীয় পক্ষ বা অনিশ্চিত প্রাইভেট লিংকের মাধ্যমে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে না।

  • অপরিচিত সাইটে আপনার এনআইডি (NID), ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ও টাকা দিলে আপনি আর্থিক প্রতারণা এবং ডাটা চুরির মুখে পড়তে পারেন।

৫. ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার সঠিক ও প্রকৃত উপায়

ধাপসমূহসঠিক আবেদন ও তালিকাভুক্তির নিয়ম
১. স্থানীয় তথ্য সংগ্রহআপনার নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে যোগাযোগ করা।
২. ফরম ও তথ্য জমাসরকারের নির্ধারিত তদারকি দল বা স্থানীয় প্রতিনিধি মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি এলাকায় গিয়ে প্রকৃত দুস্থদের তথ্য সংগ্রহ ও ফরম পূরণ করবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রজাতীয় পরিচয়পত্র (NID card)-এর ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও সক্রিয় মোবাইল নম্বর সংগ্রহে রাখতে হবে।
৪. সরকারি পোর্টালসরকার ডিজিটাল কোনো পোর্টাল চালু করলে তা কেবল অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কোনো দালাল বা প্রতারক চক্রকে এতে ঢুকতে দেওয়া হবে না।