১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:১৪:৩৭ অপরাহ্ন


কেন আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি ১৩ দেশ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-০৪ ১৯:৪১:১৫
কেন আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি ১৩ দেশ?


যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র ও সর্বাত্মক কূটনৈতিক চাপের মুখে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে বিশ্বের অন্তত ১৩টি দেশ। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে এসব দেশের কোনো কোনো সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তেহরানের কাছে তাদের অনুপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

একটি অজ্ঞাতনামা উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি প্রতিনিধিদল যেন আয়াতুল্লাহ খামেনির স্মরণসভায় যোগ দিতে তেহরানে না যায়, সে জন্য গত পাঁচ দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে একটি 'সর্বাত্মক অভিযান' চালিয়েছেন। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি অত্যন্ত গোপন নির্দেশনা জারি করেছিলেন। সেখানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত সব মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনকে কঠোর নির্দেশ দেন যেন তারা স্বাগতিক সরকারগুলোকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—খামেনির জানাজায় অংশ নিলে তাকে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি 'অবন্ধুসুলভ আচরণ' হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এর তীব্র 'নেতিবাচক প্রভাব' পড়বে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন আরব কূটনীতিক তাসনিম নিউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেই অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সেখানকার স্থানীয় সরকারগুলোকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, খামেনির দাফন ও শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কোটি কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরুর চার মাস পর খামেনির এই বিশাল জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। ইরানজুড়ে যখন ২ কোটির বেশি মানুষ প্রয়াত নেতাকে বিদায় জানাতে তেহরানে সমবেত হচ্ছেন, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের এমন কঠোর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের খবরটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামনে এলো।