১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৯:৪৫:২৪ অপরাহ্ন


সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংসদ প্রতিবেদক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-৩০ ২০:২১:২৯
সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত


ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা ও নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এখন এই অর্জিত গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে সুসংহত করার উপযুক্ত সময় এসেছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বর্তমান ও সাবেক সদস্যসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, জ্ঞানচর্চা ও মৌলিক গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান তাঁর বাণীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের এই আধুনিক যুগে প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে যুগোপযোগী করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক বিষয়গুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। একই সাথে মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতিকে আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি। এ ছাড়া ব্রিটেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সফল হতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় আরেকটি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমান্তরালে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, তরুণদের ক্যাম্পাস জীবন থেকেই নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেন তারা কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এই রূপান্তর ও অগ্রযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবরের মতোই ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।