১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩৮:১২ অপরাহ্ন


গানের কোনো ছুটি নেই, তবু আছে এক বিশেষ দিন: আজ বিশ্ব সংগীত দিবস
বিনোদন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৬-২১ ১৪:৩৭:৩৫
গানের কোনো ছুটি নেই, তবু আছে এক বিশেষ দিন: আজ বিশ্ব সংগীত দিবস


সংগীতপ্রেমীদের কাছে গান শোনার জন্য আলাদা কোনো দিন বা নির্দিষ্ট সময় নেই। গান তাঁদের ২৪ ঘণ্টার এবং ৩৬৫ দিনের চিরন্তন সঙ্গী। তবু সংগীতের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা, গভীর ভালোবাসা ও উদ্‌যাপন প্রকাশের জন্য বিশ্বজুড়ে আজ ২১ জুন পালিত হচ্ছে একটি বিশেষ দিন—‘বিশ্ব সংগীত দিবস’। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্‌যাপিত হচ্ছে। সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, শান্তি ও ইতিবাচক চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে কনসার্ট, শোভাযাত্রা ও বিনা মূল্যে সংগীত পরিবেশনার নান্দনিক আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্ব সংগীত দিবসের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৮২ সালে ফ্রান্সে ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ বা ‘মেক মিউজিক ডে’ নামে এই বিশেষ দিনটির উদ্‌যাপন প্রথম শুরু হয়। এর আগে ১৯৮১ সালে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এ বিষয়ে প্রথম চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। তবে অনেকের মতে, এর সূত্রপাত হয়েছিল আরও আগে, ১৯৭৬ সালে। সে সময় ফ্রান্সে কর্মরত মার্কিন সংগীতশিল্পী জোয়েল কোহেন গ্রীষ্মকে উদ্‌যাপন করতে ‘সামার সোলস্টাইস’ বা গ্রীষ্মকালীন অয়নকালে সারা রাত গান চালিয়ে যাওয়ার একটি প্রস্তাব করেন, যার ধারাবাহিক ফলাফল হিসেবেই ২১ জুনের এই সংগীত দিবসটি আত্মপ্রকাশ করে। ফ্রান্সের প্রথাবদ্ধ ও চিরাচরিত গানের ধারা ভাঙতে জ্যাক ল্যাংয়ের আমন্ত্রণে মরিস ফ্লুরেট ১৯৮২ সালে একটি বড় পরিসংখ্যান বা জরিপ চালান, যেখানে দেখা যায় ফ্রান্সে প্রতি দুজন তরুণের মধ্যে একজন কোনো না কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন। পরবর্তীতে জ্যাক ল্যাং, প্রকৌশলী ক্রিস্টিয়ান ডুপাভিলন এবং মরিস ফ্লুরেটের সম্মিলিত চেষ্টায় তরুণদের জন্য রক, জ্যাজ, পপসহ সব ধারার সংগীত শেখার নতুন এক দুয়ার উন্মোচিত হয়। বর্তমানে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, লুক্সেমবার্গ, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকাসহ বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশ ও ৪৫০টি শহরে এই দিবসটি সাড়ম্বরে উদ্‌যাপিত হচ্ছে, যেখানে পার্ক, রেস্তোরাঁ ও গণপরিবহনে শিল্পীরা সাধারণ মানুষের জন্য বিনা মূল্যে গান পরিবেশন করেন।

আন্তর্জাতিক সংগীতচর্চার বহুমাত্রিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশেও বিশ্ব সংগীত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের বরেণ্য ও নবীন সংগীতশিল্পীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী ‘সংগীত উৎসব’-এর আয়োজন করেছে। আজ ২১ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। উৎসবের প্রথম দিনে কণ্ঠশিল্পী আগুন, ফাহমিদা নবী, মিতা খন্দকার, মনির খান, অনিমা রায়, শফি মণ্ডল, আলিফ আলাউদ্দিনসহ দেশের ১০ জন প্রখ্যাত শিল্পী দেশের গান পরিবেশন করবেন। এছাড়া এই বিশেষ আয়োজনে চীন ও জাপান দূতাবাস থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীরাও সংগীত পরিবেশন করবেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আগামীকাল সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে একই মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে থাকবে বিশেষ সংগীত সন্ধ্যার পরিবেশনা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আজ ২১ জুন বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বেলুন ওড়ানো, উদ্বোধনী ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও সংস্কৃতিজন ashraful আলম এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সুরকার শেখ সাদী খান। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা এবং ৫টা থেকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হবে, যেখানে সমন্বয় পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা অংশ নেবেন। আগামীকাল ২২ জুন অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন আকরামুল ইসলাম এবং বিকেল ৫টা থেকে পুনরায় দলীয় ও একক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে আজ রাত ८টা ৩০ মিনিটে মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘সংস অব বেঙ্গল: প্রাণবন্ধের সনে’। ‘এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ’ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্র্যান্ড ‘মায়া’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মরমি কবি ও গীতিকার হাসন রাজার গান ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হবে, যার সংগীত পরিচালনা ও কিউরেশন করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব।