জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে আবারও বড় ধরনের সাইবার হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বিতর্কিত স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীদের টার্গেট করে ‘স্পিয়ার ফিশিং’ নামক একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার হামলা চালানোর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই হামলার সময় সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ করতে প্ররোচিত করেছিল। ব্যবহারকারীরা ওই সব লিংকে ক্লিক করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাইবার হামলার শিকার হতেন।
হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আসা কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত তদন্তে এই ‘স্পিয়ার ফিশিং’ হামলার সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এই সাইবার হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হ্যাকাররা কিছু পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্ট এবং গ্রুপ তৈরি করেছিল, যা তদন্তের পর হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে দ্রুত প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই হামলার কৌশলের সঙ্গে ২০২৪ সালে জর্ডানে শনাক্ত হওয়া একটি ফিশিং হামলার গভীর মিল রয়েছে। সেই সময়েও ঠিক একইভাবে ক্ষতিকর লিংকে প্রবেশ করিয়ে টার্গেটকৃত ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে এনএসও গ্রুপের তৈরি মারাত্মক ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানো হয়েছিল। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে চালানো এই নতুন ফিশিং হামলার অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি এনএসও গ্রুপ।
হোয়াটসঅ্যাপ এবং এনএসও গ্রুপের মধ্যকার আইনি ও প্রযুক্তিগত বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরোনো। এর আগে ২০১৯ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত হ্যাকিং অভিযানের শিকার হন। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের পক্ষে এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে একটি বড় মামলা দায়ের করে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত হোয়াটসঅ্যাপ এবং এর বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের সাইবার হামলা বা নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকতে এনএসও গ্রুপকে কঠোর নির্দেশ দেন। হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া এই নতুন ফিশিং হামলাটি আদালতের দেওয়া সেই নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন। আর এই কারণেই এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আদালত অবমাননার গুরুতর অভিযোগ এনেছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি সংস্থা বা তাদের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা মূলত এনএসও গ্রুপের তৈরি এই ‘পেগাসাস’ স্পাইওয়্যারটি ব্যবহার করে থাকেন। এই অত্যন্ত শক্তিশালী পেগাসাস স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং রাজনৈতিক प्रतिপক্ষের স্মার্টফোনে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ও গোপনে নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে।