১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৩:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন


আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের ঈদুল আজহার নামাজ আদায়: কোরবানিহীন তৃতীয় বছর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | সোহেল জুলফিকার
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-২৭ ১৫:০০:১০
আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের ঈদুল আজহার নামাজ আদায়: কোরবানিহীন তৃতীয় বছর ছবি: সংগৃহীত


জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা। পবিত্র এই ঈদের নামাজে অংশ নিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। মহান আল্লাহর আদেশে নবী ইব্রাহিম (আ.) কর্তৃক তাঁর পুত্রকে উৎসর্গ করার প্রস্তুতির ঐতিহাসিক স্মরণে প্রতি বছর মুসলিম বিশ্বে ঈদুল আজহা পালিত হয়। উল্লেখ্য, নবী ইব্রাহিম (আ.) খ্রিষ্টান ও ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে আব্রাহাম নামেও পরিচিত। এই বিশেষ দিনে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই মহান আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন এবং কোরবানির পশুর মাংস দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

তবে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ঈদের জমায়েত দেখা গেলেও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গাজায় জীবন্ত পশু প্রবেশের ওপর ইসরাইল কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখায় গত তিন বছর ধরে এই উপত্যকায় কোরবানি এক প্রকার হচ্ছে না বললেই চলে। মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এই ঈদুল আজহার দিনেও গাজাবাসীর জীবনে স্বস্তি নেই। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৮৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২ হাজার ৬৪৫ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

মূলত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলের পক্ষ থেকে চালানো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু। এছাড়া দীর্ঘদিনের এই হামলায় ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন এবং উপত্যকা জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ক্রমাগত হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।