১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৬:৪০:৫৪ অপরাহ্ন


পবিত্র আরাফাত দিবস: তাৎপর্য, আমল ও মুসলিম উম্মাহর মহিমান্বিত মহাসমাবেশ
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি | কুবলাই
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৫-২৬ ১৫:৫৩:২১
পবিত্র আরাফাত দিবস: তাৎপর্য, আমল ও মুসলিম উম্মাহর মহিমান্বিত মহাসমাবেশ


পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা তথা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভটি সম্পন্ন হচ্ছে আজ। হিজরি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে 'আরাফাত দিবস' হিসেবে পরিচিত। এই দিনটি ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্যাদাশীল এবং ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। সারা বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই দিনটিতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ও পাপমুক্তির আকুল আকুতি নিয়ে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন থাকেন।

আরাফাত দিবসের বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ইসলামী শরিয়তে আরাফাত দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিনটিকে বছরের সবচেয়ে সেরা এবং শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দিনটির বিশেষত্ব হলো, মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতটি এই আরাফাতের ময়দানেই নাজিল করেছিলেন, যেখানে দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই আরাফাতের ময়দানেই তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন এবং শয়তান এই দিনে সবচেয়ে বেশি লজ্জিত ও অপমানিত বোধ করে।

আরাফাতের ময়দানে হাজিদের মূল করণীয়

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ফরজ কাজ হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, "হজ হলো আরাফাহ।" অর্থাৎ, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ জোহরের ওয়াক্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানে অবস্থান করা ব্যতিরেকে কারো হজ সম্পূর্ণ হবে না। হজে আসা লাখ লাখ পুণ্যার্থী ইহরাম পরিহিত অবস্থায় এদিন মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেন, ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দুই হাত তুলে মোনাজাত করেন। জোহর এবং আসরের সালাত এক আজানে এবং দুই ইকামতে একসঙ্গে কসর (সংক্ষিপ্ত) করে আদায় করা হাজিদের জন্য এই দিনের একটি প্রধান সুন্নত আমল।

আরাফাত দিবসের রোজা এবং এর বিধান

যারা হজে যাননি, অর্থাৎ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে অবস্থানকারী সাধারণ মুসলমানদের জন্য আরাফাত দিবসে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে এই রোজা রাখা বাধ্যতামূলক বা ফরজ নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'নফল' বা ঐচ্ছিক ইবাদত। তবে আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারী হাজিদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা সুন্নত নয়, কারণ দীর্ঘ ইবাদত ও দোয়ার জন্য তাদের শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয়।

ক্ষমা ও ফজিলত সম্পর্কিত হাদিস

আরাফাত দিবসের ফজিলত এবং এই দিনের রোজার প্রতিদান সম্পর্কে সহীহ হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। সহীহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আরাফাত দিবসের রোজা তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা (ক্ষমা) হিসেবে গণ্য হবে।" এছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা আরাফাতের দিনের চেয়ে বেশি অন্য কোনো দিন বান্দাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না। তাই বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজ অত্যন্ত গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এই দিনটিতে আল্লাহর ইবাদত ও দোয়ায় অতিবাহিত করে থাকে।