১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৩৫:১২ অপরাহ্ন


সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের জমি দখলের ষড়যন্ত্র: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংস্কৃতিকর্মীদের তীব্র প্রতিবাদ
অনলাইন ডেস্ক | ট্র্যান্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২৫ ১৮:১৩:০৫
সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের জমি দখলের ষড়যন্ত্র: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংস্কৃতিকর্মীদের তীব্র প্রতিবাদ


শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’-এর জমি দখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিশ্ববরেণ্য এই সংগীত সাধকের পৈতৃক ভিটার একাংশ একটি স্বার্থান্বেষী চক্র জাল দলিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে—এমন অভিযোগে শুক্রবার বেলা ১১টায় শহরের পুরোনো জেলা রোড এলাকায় সংগীতাঙ্গনের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীদের হুংকার

‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মী মঞ্চ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন স্তরের সংস্কৃতিকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি আবদুন নূরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ শুধু এই উপমহাদেশের নন, বরং বিশ্বসংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর স্মৃতিধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস করতে ২০১৬ ও ২০২১ সালে একাধিকবার অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেই অশুভ শক্তিই এখন ‘ভূমিখেকো’ সেজে জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভূমি দখলের পাঁয়তারা করছে। বক্তারা অবিলম্বে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কালচারাল কমপ্লেক্স প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

মামলা ও আইনি জটিলতার নেপথ্যে

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে জনৈক খুরশেদ মিয়া খাঁ ও সরিজা বেগমের ছেলেরা একটি দানপত্র দলিলের দোহাই দিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা সঙ্গীতাঙ্গনের ভেতর ৮ শতাংশ জায়গা ভোগদখল করছেন এবং সেখানে ঘর নির্মাণ ও পুকুরে মাছ চাষ করছেন। গত বছরের মে মাসে আদালত বিএস জরিপ সংশোধনের পক্ষে রায় দিলে সংগীতাঙ্গনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে।

তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংগীতাঙ্গনের ভেতরে আটটি কক্ষ, একটি মিলনায়তন ও একটি জাদুঘর থাকলেও সেখানে কোনো পুকুর বা বসবাসের জন্য ঘর নেই। এলাকাবাসীর দাবি, অস্তিত্বহীন ঘর ও পুকুরের কথা বলে মূলত একটি চক্র ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠানের জমি গ্রাস করতে চাইছে।

প্রশাসনের আশ্বাস

পদাধিকারবলে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবু সাঈদ। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসন অবগত এবং এই ষড়যন্ত্র ও আইনি জটিলতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সংস্কৃতিকর্মীরা হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, সুরসম্রাটের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকু রক্ষায় তাঁরা রাজপথে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাবেন।