১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৭:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন


দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব বাস মালিক সমিতির
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-১৯ ১৭:২০:৫৮
দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব বাস মালিক সমিতির ছবি: সংগৃহীত


বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করার পর পরই অস্থিরতা শুরু হয়েছে দেশের পরিবহন খাতে। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাস ও ট্রাকের ভাড়া নতুন করে সমন্বয় করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন মালিক সমিতির নেতারা। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বর্তমানের ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি গেজেটে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় পরিবহন মালিকরা বর্তমানে বেশি দামে তেল কিনে পুরনো ভাড়ায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মালিকরা দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে বাস চালাবেন না। আজকের মধ্যেই ভাড়ার এই বিষয়টি নিরসন করার জন্য তারা সরকারের সঙ্গে জোর যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিবহন মালিকদের দাবি, শুধু জ্বালানি তেল নয়, গত কয়েক বছরে বাস ও ট্রাক পরিচালনার সার্বিক খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। সাইফুল আলমের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২২ সালে একটি বাসের চেসিসের দাম যেখানে ছিল ২৪ লাখ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ টাকায়। একইভাবে বডি তৈরির খরচ ১১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ একটি নতুন বাস নামাতেই এখন আগের চেয়ে ২০-২১ লাখ টাকা অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে। এর ওপর ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশ হওয়ায় কিস্তির চাপও বহুগুণ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জ্বালানির দাম বাড়ার সময় মালিক সমিতি কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৮০ পয়সা প্রস্তাব করলেও সরকার তা ২ টাকা ১২ পয়সায় স্থির করেছিল। মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে খরচ বাড়লেও ভাড়ার আর কোনো সমন্বয় করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের দাবি, এবার কিলোমিটার প্রতি ভাড়া অন্তত সাড়ে ৩ টাকা না করলে মালিকদের পক্ষে রাস্তায় গাড়ি রাখা আর সম্ভব হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না এলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।